ধামরাইয়ে ডিবিকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে যুবককে কুপিয়ে জখম

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি:

ঢাকার ধামরাইয়ে মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মো. আনোয়ার হোসেন নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের কুটিরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার মোহাম্মদ হানিফ আলীর ছেলে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় মাদক কারবারের বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন আনোয়ার হোসেনকে অবহিত করেন। পরে তিনি কথিত মাদক কারবারি জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তারের জন্য ডিবি পুলিশকে তথ্য দেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরপরই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারীদের ভাষ্য।

ডিবি পুলিশের অভিযান, পরে হামলার অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা উত্তর ডিবি পুলিশের একটি দল সুয়াপুর ইউনিয়নের কুটিরচর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, জুয়েল রানাকে আটক করা। তবে তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের ভাষ্য। পরে ডিবি পুলিশের দলটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ডিবি পুলিশের দল চলে যাওয়ার পর আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা করা হয়। জুয়েল রানা ও তাঁর সহযোগীরা চাপাতি ও রামদা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যান বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। পরে স্থানীয় লোকজন আহত আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাদক কারবারের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জুয়েল রানা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কক্সবাজারেও তাঁর একটি গোপন আস্তানা রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ ছাড়া মাদক কারবারের মাধ্যমে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হওয়া এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদক কারবার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে অপরাধপ্রবণতা কমতে পারে। একই সঙ্গে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।

ডিবি পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের এসআই মুহাম্মদ জুয়েল রানা বলেন, মাদক কারবারি জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তারের জন্য ওই এলাকায় কোন কর্মকর্তা অভিযান পরিচালনা করেছেন, তা তাঁর জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে, ডিবি পুলিশের কথিত সোর্স মিন্টু মিয়া দাবি করেন, জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তারের জন্য ডিবি পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল। তাঁকে আটক করতে না পেরে দলটি চলে যাওয়ার পর আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা করা হয় বলে তাঁর ভাষ্য। হামলাকারীরা রামদা ও চাপাতি দিয়ে আনোয়ারকে কুপিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায় বলে তিনি দাবি করেন। তবে হামলার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং ডিবি পুলিশের অভিযানের সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

থানায় লিখিত অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে জুয়েল রানা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ধামরাই থানার এসআই মো. মোতাহার রুবেল বলেন, জুয়েল রানা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আনোয়ার হোসেনকে রামদা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হামলার প্রকৃত কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এবং মাদক কারবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *