মো. আব্দুল গফুর সিকদার:
ভোলার মনপুরা উপজেলার ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় নদীভাঙনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত তিন মাসে সড়কটির একটি বড় অংশ ভেঙে গেলেও ভাঙন রোধে এখনো কোনো সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে স্থানীয়রা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁশ, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করছেন। তবে পানির তীব্র স্রোতে তাঁদের সেই উদ্যোগও বারবার ভেসে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সড়কটি কলাতলী ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, বয়োবৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। ভাঙন ঠেকাতে গ্রামবাসীরা সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী কোনো কাজে আসছে না।
ভাঙনস্থলের একেবারে পাশে রয়েছে হাজী জামে মসজিদ, একটি মাদ্রাসা ও একটি কবরস্থান। সড়কটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে কলাতলী ইউনিয়নের চারপাশে পর্যাপ্ত বেড়িবাঁধ না থাকায় অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, পুকুর, খাল-বিল ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, ইউনিয়নটি গঠনের পর প্রায় দুই বছর পাঁচ মাস পার হলেও বড় ধরনের সরকারি বরাদ্দ ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ কমছে না।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, জোয়ারের পানি ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রায়ই তাঁদের ফসলের জমি ডুবে যায়। এতে রবি, সরিষাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ ব্যাহত হয় এবং অনেক সময় ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তাঁদের মতে, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে কৃষিজমি রক্ষা, ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন সম্ভব হবে।
৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় দুই বছর পাঁচ মাস মেয়াদ চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা বড় ধরনের কোনো সরকারি বরাদ্দ পাইনি। কলাতলী ইউনিয়নের জন্য বড় ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হলে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।”
তিনি বলেন, “কলাতলী ইউনিয়নে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা সবচেয়ে জরুরি। আমাদের ইউনিয়নটি মনপুরা উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ। এখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। কৃষিজমি ভেঙে গেলে তাঁরা কীভাবে চলবেন?”
শাহাবুদ্দিন আরও বলেন, “নদীতে মাছ না থাকায় মৎস্যজীবীরাও খুব কষ্টে আছেন। এর মধ্যে কৃষিজমি ভেঙে গেলে কৃষকেরা তাঁদের পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, সেটি বড় প্রশ্ন। তাই কলাতলী ইউনিয়নের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
ক্ষতিগ্রস্ত ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দাবি, সাধারণ মানুষের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে এত বড় ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের পাশাপাশি হাজী জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান রক্ষায় জিও ব্যাগ অথবা স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে কলাতলী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সরকারি বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।