নারায়ণগঞ্জে হোটেল সুরমাকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

সারোয়ার মৃধা:

নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আবাসিক হোটেল ‘সুরমা’কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আবাসিক হোটেলের আড়ালে এখানে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তাঁরা। প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার কাছাকাছি অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও হোটেল সুরমাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ হোটেলটিতে আসা-যাওয়া করেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিংবা চুক্তিভিত্তিক কক্ষ ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে হোটেলটিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যকলাপ চললেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবাসিক হোটেলের নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় আশপাশের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। হোটেলটির আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা। ফলে প্রতিদিনের বহিরাগতদের আনাগোনা, সন্দেহজনক চলাফেরা এবং বিভিন্ন সময়ের হট্টগোল নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে এলাকার কিশোর ও তরুণদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু একটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় ব্যবসায়িক পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। তাঁদের মতে, আবাসিক হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি।

এ বিষয়ে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যে এভাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা সামাজিকভাবেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে হোটেল সুরমাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগের পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, থানার এত কাছাকাছি একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে বারবার অভিযোগ ওঠার পরও কেন কার্যকর তদন্ত ও নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে না? হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও কোনো ধরনের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে হোটেলটির কার্যক্রম, অতিথি নিবন্ধন, কক্ষ ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। তদন্তে অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা প্রশাসক এবং সদর থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হোটেলটির কার্যক্রম পরিদর্শন, অনিয়মের তদন্ত এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটন করবে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকার সামাজিক পরিবেশ, জননিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হোটেল সুরমাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *