স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর সদর উপজেলার মিদ্দারহাট ইউনিয়নের ভূমি সহকারী মজিবুল হককে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, অর্থবিত্তের বিস্তার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি ও বহুতল ভবন রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান, নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, রেকর্ড সংক্রান্ত কাজ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন মজিবুল হক। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া এবং মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের কারণে তিনি বারবার অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মজিবুল হক বলেন,
“ভাই, এই পর্যন্ত হাজার খানেক সাংবাদিক আমাকে ফোন দিয়েছে, আমার কাছে এসেছে, চা খেয়েছে, ভাত খেয়েছে, টাকাও দিয়েছে। এখন আর ভালো লাগে না। যেহেতু আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে, আমি ওই তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথেই কথা বলব, অন্য কারও সঙ্গে নয়।”
তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়ার বিষয়ে তার মন্তব্য নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে একাধিক সংস্থা অনুসন্ধান বা তদন্ত করছে। তবে কোন সংস্থা, কী পর্যায়ে তদন্ত করছে এবং তদন্তের অগ্রগতি কী—সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হোক, যাতে জনমনে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নের সুষ্ঠু জবাব পাওয়া যায়।