পরপর দুই দিন হামলার অভিযোগ, বিজেপিকে দায়ী করলেন কুণাল ঘোষ

অনলাইন ডেস্ক:

কলকাতায় পরপর দুই দিন হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তার অভিযোগ, রোববার বেলেঘাটা এলাকায় একদল মোটরসাইকেল আরোহী তার গাড়ি ঘিরে হামলা চালায় এবং তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করে। এ ঘটনার পেছনে বিজেপির রাজনৈতিক যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল বলে দাবি করেছে।

এর আগে শনিবার শ্রীরামপুরে তৃণমূলের একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। তার দাবি, একদল লোক গাড়ির পথ আটকে ইট, পাথর, ডিম ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। এতে গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রোববারের ঘটনার বিষয়ে কুণাল ঘোষের দাবি, বেলেঘাটায় যাওয়ার পথে ১৫ থেকে ২০ জন মোটরসাইকেল আরোহী তার গাড়িকে অনুসরণ করছিলেন। ফুলবাগান এলাকায় তারা গাড়িটি ঘিরে ফেলেন। হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও লোহার রড ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একজন তাকে জামার কলার ধরে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করেন এবং হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচে আঘাত করা হয় বলে জানান তিনি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কুণাল ঘোষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী আগ্নেয়াস্ত্র বের করেন বলে তার দাবি। পরে গাড়িচালক দ্রুত গাড়িটি নারকেলডাঙা থানায় নিয়ে গেলে সেখানে আশ্রয় নেন তিনি।

ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুণাল ঘোষের পক্ষ থেকেও পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, আসন্ন কলকাতা পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করলেও বিজেপি তা অস্বীকার করেছে।

বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, হামলার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগটি ভিত্তিহীন।

এদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হামলার নিন্দা করে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশি তদন্তও চলছে। হামলার প্রকৃত কারণ ও কারা এতে জড়িত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *