আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০১৯ সালে পাকিস্তানের মাটিতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দেশটির সেনাদের হাতে আটক হওয়া ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমান এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন। দীর্ঘ ২২ বছর ভারতীয় বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বার্তাসংস্থা পিটিআই বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অভিনন্দন স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। এরপর তিনি একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইন ফ্লাই৯১-এ গত আগস্টে সাধারণ পাইলট হিসেবে যোগ দেন অভিনন্দন। তবে এ বিষয়ে তিনি নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে এয়ারলাইনটির মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয় না।
২০২৪ সালের মার্চে যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম শুরু করে ফ্লাই৯১। বর্তমানে এটিআর ৭২-৬০০ মডেলের ছয়টি বিমান নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এয়ারলাইনটি।
পাকিস্তানের হাতে যেভাবে আটক হন অভিনন্দন
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পুলওয়ামায় ভয়াবহ বোমা হামলায় ৪০ ভারতীয় নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এর জেরে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী।
এরপর পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেন তৎকালীন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। সেখানে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর সঙ্গে আকাশযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তার মিগ-২১ যুদ্ধবিমান। একপর্যায়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে অবতরণ করেন তিনি।
পরে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে আটক হন অভিনন্দন। প্রায় তিন দিন আটক থাকার পর তাকে ভারতের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। ওই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
২০১৯ সালের শেষ দিকে অভিনন্দনকে ‘বীরচক্র’ পদকে ভূষিত করে ভারত সরকার। যুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক দক্ষতা ও সাহসিকতার জন্য এটি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান।
সূত্র: পিটিআই, এনডিটিভি