পাবনার দোগাছীতে অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি

মোহাম্মদ আবদুস সাত্তার শিল্পু:

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বরনা খাতুনের উদ্যোগে পাবনার দোগাছীতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বরনা খাতুন উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ করেন এবং স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোগাছী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আব্দুল বাশার, দোগাছী ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য মোছাঃ মরিয়ম খাতুন, অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম, সহকারী পরিচালক নারায়ণ কুন্ড, সিনিয়র অফিসার (MIS & IT Head) সজিবুল ইসলাম, সিনিয়র অফিসার আব্দুস সাত্তার শিপলু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাসনাত জামিন প্রান্ত, এরিয়া ম্যানেজারসহ সংস্থার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই

কর্মসূচিতে অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বরনা খাতুন বলেন, “বৃক্ষ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বায়ুদূষণ ও পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের ভারসাম্যহীনতা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, “শুধু গাছ লাগালেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; গাছ লাগানোর পাশাপাশি এর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করাও আমাদের দায়িত্ব।” আজ যে চারাগাছটি রোপণ করা হচ্ছে, সেটি যেন ভবিষ্যতে একটি বড় বৃক্ষে পরিণত হয়, সেজন্য নিয়মিত পানি দেওয়া, পরিচর্যা করা এবং গাছটিকে সুরক্ষিত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান

নির্বাহী পরিচালক বরনা খাতুন বলেন, প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-প্রতিষ্ঠান এবং খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, “আজকের একটি গাছ আগামী দিনের অসংখ্য মানুষের জন্য অক্সিজেনের উৎস হতে পারে।” তাই পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মসূচিতে বক্তারা পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ, চারাগাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে উপস্থিত অতিথি ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ এবং স্থানীয়দের মধ্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *