স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, আওয়ামী লীগ এখন ‘মরা লাশ’, আগামী ৫০ বছরে দেশের রাজনীতিতে দলটির ফেরার কোনো সম্ভাবনাই নেই। সোমবার (১০ নভেম্বর) রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
নুর লেখেন, “আওয়ামী লীগ এখন মরা লাশ। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এখন এর দাফন-কাফন সম্পন্ন হবে। সুতরাং মরা লাশের পেছনে ছুটে হয়রান না হয়ে নতুন দিনের সম্ভাবনার নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে থাকুন।”
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নুরুল হক নুর বলেন, দেশে অবস্থানরত লীগার ভাইদের বলব—বিদেশে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিরাপদে থাকা শত-সহস্র কোটি টাকার মালিক নেতাদের কথায় হুজুগে রাস্তায় নেমে নিজের ও পরিবারের জন্য বিপদ ডেকে আনবেন না।
তিনি লেখেন, “কী দরকার গ্রেফতার ও গণধোলাইয়ের ঝুঁকি নিয়ে মুখোশ, মাস্ক পরে ঝটিকা বা গুপ্ত মিছিল করার? আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপি-জামায়াতসহ আমরা বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি, সে তুলনায় আপনারা অনেক ভালো আছেন। আমার মনে হয় চুপচাপ থাকলে আরও ভালো থাকবেন, উৎপাত করলে বিপদ।”
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুর আরও লেখেন, পালিয়ে থাকা নেতাদের কথায় লাফালাফি করে কোনো লাভ নেই। তিনি দাবি করেন, শেখ মুজিবুর রহমানের পর তার কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের রাজনীতির মৃত্যু ডেকে এনেছেন।
নুরের ভাষায়, “৭৫ সালে শেখ মুজিবের পর ২০২৪ সালে তার মেয়ে হাসিনা আওয়ামী লীগের রাজনীতির মৃত্যু ঘটিয়ে ভারত পালিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ এখন মরা লাশ। দেশের রাজনীতিতে আগামী ৫০ বছরেও আওয়ামী লীগের ফেরার সম্ভাবনা নেই।”
নুরুল হক নুর তাঁর ফেসবুক পোস্টে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন। তিনি লেখেন, “নতুন বাংলাদেশ আমরা সবাই মিলে গড়ব—যেখানে কোনো ক্ষমতালোভী খুনি শাসক তৈরি হবে না, ফ্যাসিবাদের ছায়া থাকবে না। থাকবে মানুষের ভয়হীন চিত্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সততা, দায় ও দরদের রাজনীতি।”
নুরের এই পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই তাঁর মন্তব্যকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করছেন। কেউ কেউ একে আওয়ামী লীগের প্রতি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিবাদ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এটি নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকারের পরিবর্তন, এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নীরবতা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। এর মধ্যেই নুরুল হক নুরের এই বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নুরের এই মন্তব্য কেবল আওয়ামী লীগের সমালোচনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘একটি নতুন ধারা’ গঠনের ইঙ্গিতও বহন করে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ ইতোমধ্যেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।