ক্রীড়া প্রতিবেদক:
অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তখনও পাসপোর্টই ছিল না! তড়িঘড়ি করে পাসপোর্ট বানিয়ে জীবনের প্রথম বিদেশ সফরে গিয়েই বল হাতে ইতিহাস গড়ছেন বাংলাদেশের রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার।
এক বছর আগেও দেশের ক্রিকেটে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না মোহাম্মদ রুবেল। চট্টগ্রাম শহরে বেড়ে ওঠা এই ক্রিকেটার ছোটবেলাতেই মাকে হারান। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ধরে রেখেছিলেন। বয়স যখন ত্রিশের কোঠায়, তখন যেন নতুন করে নিজের গল্প লেখা শুরু করেছেন তিনি।
চট্টগ্রামের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের নেট বোলার হিসেবে নিয়মিত বল করতেন রুবেল। গত বছর হঠাৎ সুযোগ পান এসসিএল টি-টোয়েন্টি লিগে। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে নজর কাড়েন এবং সুযোগ পান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে।
সবশেষ বিপিএলে নাম লেখানোর পরই বড় পরিসরে আলোচনায় আসেন এই স্পিনার। তার বোলিং অ্যাকশন যেমন ভিন্নধর্মী, তেমনি দুসরা ডেলিভারিও বেশ কার্যকর। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেসব বাধা পেরিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন রুবেল।
বিপিএলের পর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও বল হাতে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেন তিনি। ধারাবাহিক সাফল্যের সুবাদে দ্রুতই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নজরে চলে আসেন। এরপর বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পান।
অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার সময়ও ছিল ভিন্ন এক গল্প। বিদেশ সফরের আগে রুবেলের পাসপোর্টই ছিল না। শেষ মুহূর্তে পাসপোর্ট তৈরি করে দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় যান তিনি। আর সেখানেই শুরু করেন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স।
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে রুবেলের শিকার ২০ উইকেট। প্রথম ম্যাচে ১৮ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ ওভারে ২৫ রান দিয়ে পান ৩ উইকেট। তৃতীয় ম্যাচে ১৫ রানে ৪ উইকেট এবং চতুর্থ ম্যাচে ৩০ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।
পঞ্চম ম্যাচে ৩৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়ার পর সবশেষ ষষ্ঠ ম্যাচে মাত্র ২১ রান খরচ করে ৫ উইকেট তুলে নেন রুবেল। অর্থাৎ ছয় ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
বিদেশের মাটিতে নিজের প্রথম সফরেই এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। একসময় যাকে দেশের ক্রিকেটের খুব বেশি মানুষ চিনতেন না, সেই রুবেলই এখন ম্যাচের পর ম্যাচ নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন। তার গল্প যেন বলে—ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও সুযোগ পেলে অসম্ভবও সম্ভব।
রুবেলের এই উত্থানের পেছনে অবদান রয়েছে চট্টগ্রামের আরেক ক্রিকেটার ইরফান শুক্কুরেরও। ছোটবেলা থেকেই রুবেলকে চিনতেন তিনি। যখন রুবেলকে খুব কম মানুষ চিনতেন, তখনও শুক্কুর তাকে আগলে রেখেছেন বলে জানা যায়।
আরও মজার ব্যাপার হলো, যে অস্ট্রেলিয়া সফর রুবেলের ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, সেখানেই তিনি পাচ্ছেন ইরফান শুক্কুরকে অধিনায়ক হিসেবে। ক্রিকেটের গল্পে ভাগ্যের এমন মিলই হয়তো রুবেলের উত্থানকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।