পাহাড় পাড়া ব্রিজ থেকে বলিয়ারচড় বাজার রাস্তাটি সম্পূর্ণ সংস্কারের দাবি: অর্ধেক বরাদ্দে কাটছে না দুর্ভোগ

মোঃ রাসেল:

বান্দরবানের লামা উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র প্রধান রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। “পাহাড় পাড়া ব্রিজ হতে বলিয়ারচড় বাজার” পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির সংস্কারকাজ চলমান কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের আওতায় অর্ধেক সম্পন্ন হলেও, বাকি অর্ধেক অংশ বরাদ্দহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কাটছে না। সম্পূর্ণ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাতায়াতকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং বলিয়ারচড় বাজারের ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। এ ছাড়া রাস্তার আশপাশে অবস্থিত স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার মুসল্লি এবং কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটি। দীর্ঘদিন বড় ধরনের কোনো সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে বৃদ্ধ ও রোগীদের হাসপাতালে আনা-নেওয়াসহ নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এলাকার ভুক্তভোগী প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, আমাদের সমাজে যদি কোনো মানুষ মারা যায়, তবে তার লাশ জানাজার মাঠে নেওয়ার মতো ন্যূনতম পরিবেশও এই রাস্তায় নেই। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিয়ে। এলাকায় কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না। কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে চার-পাঁচজন মানুষ মিলে কোলে তুলে বা খাটিয়ায় করে অনেক দূর হেঁটে পাহাড় পাড়া ব্রিজের কাছে নিয়ে আসতে হয়, তারপর সেখান থেকে গাড়িতে তুলতে হয়। রাস্তার এই দুরবস্থার কারণে জরুরি মুহূর্তে কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি ভেতরে আসতে চায় না। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে এই রাস্তাটি এখনই সম্পূর্ণ সংস্কার করা জরুরি।”

এলাকাবাসী জানান, চলতি অর্থবছরে এই রাস্তার উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় আংশিক বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে রাস্তার মাত্র অর্ধেক অংশের কাজ করা সম্ভব হবে। কিন্তু পাহাড় পাড়া ব্রিজ থেকে বলিয়ারচড় বাজার পর্যন্ত এই দীর্ঘ রাস্তার বাকি অর্ধেক অংশ যদি এই বাজেটের আওতায় বা নতুন কোনো জরুরি বরাদ্দ দিয়ে সংস্কার করা না হয়, তবে পুরো এলাকার মানুষের যাতায়াতের মূল সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না। অর্ধেক রাস্তা ভাঙা ও কাদায় ডুবে থাকার কারণে সুফল থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ।

এই বিষয়ে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব শহিদুল ইসলাম জানান, “৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি অত্যন্ত সত্য। পাহাড় পাড়া ব্রিজ থেকে বলিয়ারচড় বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি এই এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের মূল মাধ্যম। চলমান কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়িয়ে বা বিশেষ কোনো তহবিলের মাধ্যমে যদি রাস্তার বাকি অংশের কাজ এখনই শেষ করা যায়, তবেই এলাকাবাসী পূর্ণাঙ্গ সুফল পাবে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মুসল্লিদের দাবি—জনস্বার্থে এবং দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতে চলমান কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধি করে কিংবা বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করে পাহাড় পাড়া ব্রিজ থেকে বলিয়ারচড় বাজার পর্যন্ত রাস্তার অবশিষ্ট অংশের নির্মাণকাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রশাসন অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *