রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ওষুধ সরবরাহ ও বিতরণে অনিয়মের কারণে সাধারণ রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা মানুষজন।
রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের আউটডোর বিভাগে সরকারি ওষুধ থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না তারা। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। এতে বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে অতিরিক্ত দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে রোগীদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের ওষুধ আউটডোরে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও রোগীদের মাঝে সেগুলো সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। বরং একটি চক্র বিভিন্ন সময়ে এসব ওষুধ বাইরে বিক্রি করছে বলে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে, গত ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালায় বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় আউটডোর বিভাগ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ জব্দ করা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। ওই ঘটনার পর দুই চিকিৎসকের নামেও মামলা দায়ের হয়েছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
সম্প্রতি আবারও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বেড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, “সকাল থেকে টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ওষুধ পাই না। পরে বাইরে থেকে কিনতে হয়। সরকারি ওষুধ তাহলে কোথায় যাচ্ছে?”
রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও আউটডোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি থাকলে অনিয়ম বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে।