প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ: বরুড়ায় ইংরেজি শিক্ষকদের দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা

মোঃআনজার শাহ

বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরে ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরাসি (এফএলএন) কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন ও শ্রেণিকক্ষে ইংরেজি শিক্ষাদানের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় দিনব্যাপী ইংরেজি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শত চুয়ান্ন জন (১৫৪) ইংরেজি বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষক পঞ্চম ব্যাচ হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম:
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল পাঠদানকে আরও কার্যকর, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও ফলপ্রসূ করা। এতে আধুনিক পাঠদানের কৌশল, কার্যকর শিক্ষণপদ্ধতি ও ব্যবহারিক অনুশীলনের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের জন্য দলীয় কাজ, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সরাসরি পাঠ প্রদানের মডেল প্রয়োগের মাধ্যমে শেখানোর পদ্ধতি উন্নত করা হয়।

অতিথি ও আলোচ্য বক্তব্য:
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মোটিভেশনাল বক্তব্য প্রদান করেন বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি। তিনি বলেন, একটি দক্ষ ও মানসম্পন্ন জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবর্তে কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মৌলিক ভাষা ও গণিত দক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আন্তরিকতা, সৃজনশীলতা ও আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি আহসান হাফিজ, যিনি শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকারের সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়া:
কর্মশালার প্রতিটি সেশনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা অত্যন্ত উৎসাহ ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন। তারা দলীয় আলোচনা, ব্যবহারিক অনুশীলন ও পাঠ-মডেল উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের পাঠদান দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন। শিক্ষকরা বলেন, কর্মশালায় শেখানো কৌশলগুলো শ্রেণিকক্ষে দ্রুত প্রয়োগ করলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক ইংরেজি দক্ষতা উন্নত হবে এবং এফএলএন-এর লক্ষ্যগুলো দ্রুত অর্জিত হবে।

প্রভাব ও প্রত্যাশা:
আয়োজকদের ভাষ্য, এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শেখার মানোন্নয়নে নির্দিষ্ট বদল আনবে। তারা আশা করছেন যে, এফএলএন বাস্তবায়নে বরুড়া উপজেলা দ্রুত অগ্রগতি করবে এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে মৌলিক পাঠ ও গণিত দক্ষতায় পারদর্শী হবে। এছাড়া উন্নত শিক্ষাদানের ফলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও ইংরেজি ভিত্তিক যোগাযোগ দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
স্থানীয় শিক্ষা অফিস অনুরূপ কর্মশালা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। পঞ্চম ব্যাচের প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন শেষে প্রশিক্ষণের সফল পদ্ধতিগুলো অন্যান্য বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণের ফলাফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োগকৃত কৌশলের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *