ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুর শহরের প্রাচীন পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিসহ স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে অবস্থিত মন্দিরটিতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মন্দিরের সেবায়েত ও কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী রোববার দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে কালীমাতাকে শয়ন দিয়ে মন্দিরের দরজাগুলো তালাবদ্ধ করে সেবায়েতরা চলে যান। মন্দিরের পূর্ব পাশের কাঠের দরজার পর লোহার দরজা ও শাটারযুক্ত গেটে একাধিক তালা লাগানো ছিল। সকালে মন্দিরে এসে সেবায়েতরা দেখতে পান, তালাগুলো কাটা এবং দরজা খোলা।
পরে মন্দিরের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, শ্বেতপাথরের শিবমূর্তির ওপর স্থাপিত কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি নেই। মূর্তির গায়ে থাকা আনুমানিক ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকারও চুরি হয়েছে। পাশাপাশি পিতলের ছোট ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি এবং মহাদেবের লিঙ্গের সঙ্গে থাকা আনুমানিক ৮-১০ ভরি ওজনের রূপার সাপসহ আরও কিছু ধর্মীয় সামগ্রী নিয়ে গেছে চোররা।
মন্দিরের পুরোহিত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, শ্বেতপাথরের শিবমূর্তির ওপর কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি স্থাপন করা ছিল।
তিনি জানান, পুরো প্রতিমাটির ওজন প্রায় ৪০ কেজি। এর মধ্যে চুরি যাওয়া কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটির ওজন আনুমানিক ২০ কেজি। চোররা শিবমূর্তিটি রেখে শুধু ওপরের কালীমূর্তিটি নিয়ে গেছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী বলেন, সকালে মন্দিরে এসে প্রতিমা না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কালীমূর্তির সঙ্গে থাকা মহাদেবের অংশ এবং কষ্টিপাথরের কালীমাতার পায়ের পাতার অংশ পাওয়া গেছে।
তবে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, রূপার সাপ ও অন্যান্য সামগ্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মন্দিরের সেবায়েতের ভাতিজা কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলো অচল ছিল। ফলে চুরির সময়ের কোনো দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, মন্দিরটি প্রায় ১২৩ বছরের পুরোনো। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের পশ্চিম পাশে ১৮ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত এ মন্দিরের পাকা কাঠামো নির্মাণ করা হয় ১৯০৩ সালে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রাচীন এ মন্দিরে এ ধরনের চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পর মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে রোববার ভোর পৌনে ৬টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মো. মিয়াজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে চুরির স্থান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের কাজ করা হয়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, মন্দির থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চোরচক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।