স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পথে প্রান্তিক জনপদে উন্নয়নের আলো ছড়াচ্ছে বিএনএফ: চেয়ারম্যান বাদরু

 

মোঃ আনজার শাহ:-

(কঠোর যাচাই-বাছাইয়ে সহযোগী এনজিও নির্বাচন, ক্ষুদ্র ঋণ থেকে শিশুশিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষা, সবখানেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন)

স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মতান্ত্রিকতার দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দেশের প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত জনপদে উন্নয়নের আলো পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (বিএনএফ)। সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন এই স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান সহযোগী এনজিওগুলোর মাধ্যমে হতদরিদ্র মানুষের জীবনে বয়ে আনছে আত্মনির্ভরতার নতুন সম্ভাবনা।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ মুরতাজুল করিম বাদরু বলেন, “বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। দেশের প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ছোট ও মাঝারি এনজিওগুলোকে অর্থায়ন ও সহায়তা করাই এর মূল কাজ।” ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশন তৃণমূলে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে অনুদান ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

নিয়মের বাঁধনে স্বচ্ছ নির্বাচন:
চেয়ারম্যান জানান, বিএনএফ সরাসরি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে না। একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশীয় এনজিওগুলোকে সহযোগী সংস্থা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদন আহ্বান করা হয়।
আবেদনকারী এনজিওকে সমাজসেবা অধিদপ্তর, উইমেন অ্যাফেয়ার্স অধিদপ্তর, যৌথ মূলধনী কোম্পানী ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) কিংবা এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মতো যেকোনো একটি সরকারি কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন থাকতে হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকাও সাধারণ শর্ত।

বাদরু বলেন, “প্রাপ্ত আবেদনগুলো কঠোর ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বোর্ডের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ সাব-কমিটি। নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরই চূড়ান্তভাবে সহযোগী সংস্থা তালিকাভুক্ত করা হয়।”
অতিদরিদ্রের স্বাবলম্বনের স্বপ্নযাত্রা
চেয়ারম্যান আরও বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”

টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অতিদরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষকে ক্ষুদ্র ঋণ বা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এই সহায়তায় তাঁরা হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, হস্তশিল্প এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মধ্য দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাচ্ছে প্রত্যন্ত জনপদের অসংখ্য পরিবারে।

অক্ষরের আলোয় আলোকিত বস্তির শিশুরা:
রেলওয়ে বস্তি এবং হরিজন ও সুইপার কলোনির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে পরিচালিত হচ্ছে বিশেষায়িত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ কেন্দ্র। সমাজের প্রান্তে থাকা এই শিশুদের জন্য কেন্দ্রগুলো হয়ে উঠছে শিক্ষা ও সংস্কৃতির নতুন আঙিনা।

নারীর হাতে আত্মনির্ভরতার চাবি:
গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া নারীদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ঘরের চার দেয়াল পেরিয়ে অর্থনীতির মূলস্রোতে নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন তাঁরা।

প্রতিবন্ধী মানুষের মর্যাদা ও পুনর্বাসনে:
বাদরু বলেন, “সমাজের পিছিয়ে থাকা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের থেরাপি, সহায়ক উপকরণ প্রদান এবং তাঁদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রকল্পগুলো সচল রয়েছে।”
দুর্যোগপ্রবণ জনপদে সবুজ ও নিরাপদ পানির অঙ্গীকার
উপকূলীয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং পরিবেশ সুরক্ষামূলক নানা কার্যক্রমে সহযোগী সংস্থাগুলোকে তহবিল দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা:
কুমিল্লার বরুড়ার মাটি থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার মোহাম্মদ মুরতাজুল করিম বাদরুর জন্য এটি নিঃসন্দেহে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পথচলায় অর্জিত সাংগঠনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের বৃহত্তর পরিসরে।
উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা, এনজিওগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং উদ্যোগগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও ফলপ্রসূ করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কতটা গতিশীল হয় এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বরুড়ার মানুষের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ ও কর্মদক্ষতার ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটবে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সময়কাল প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকার একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠুক, এমনই প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *