মোঃআনজার শাহ:
বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) শ্রমিক আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার (আজ) সকাল থেকে ইপিজেডের ১ নম্বর গেইটে অবস্থান নিয়ে নাসা কোম্পানির শত শত শ্রমিক এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ন্যায্য বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। বারবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। একজন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক বলেন, “আমরা ঘরে বসে থাকলে পরিবার না খেয়ে মরবে। মালিকপক্ষ বারবার আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু একটি টাকাও পরিশোধ করেনি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় এসেছি।”
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে টমছমব্রীজ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। এতে ওই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
এদিকে ইপিজেডের প্রধান ফটকে নাসা কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দিনভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে বকেয়া পরিশোধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকদের ক্ষোভ ও হতাশা মুহূর্তে মুহূর্তে বাড়তে থাকে।
শ্রমিক অসন্তোষের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ায় ইপিজেডের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রপ্তানি আদেশ পূরণে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর মধ্যস্থতার উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতারা বলেন, রাষ্ট্র যদি শ্রমিকের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া বেতন পরিশোধ, ভবিষ্যতে নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় আগামীকালও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।