বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে কুমিল্লায় সড়কের পাশে ৫ হাজার তালবীজ রোপণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কুমিল্লার লালমাইয়ে ৫ হাজার তালবীজ রোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে তালবীজ বিতরণ করা হয়।

আলোচনা সভা ও তালবীজ বিতরণ শেষে উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও, দৌলতপুর ও পূর্ব নোয়াগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সংগঠনের অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সদস্য অংশ নেন।

এ সময় দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. তফাজ্জল হোসেন মজুমদার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ সাইফুল্লাহ, লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রিফাত, অর্থ সম্পাদক আকিব হাসান, প্রচার সম্পাদক সালমান সাজিলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্মসূচির প্রথম দিনে সংগৃহীত ১ হাজার তালবীজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ এবং বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে। চলতি মাসজুড়ে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের পাশে পর্যায়ক্রমে মোট ৫ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে।

লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ২০১১ সাল থেকে তারা বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো ও পরিবেশ রক্ষায় তালবীজ রোপণ করে আসছেন। গত ১৫ বছরে সারা দেশে অন্তত ৭০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। এবারও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো মানুষের বড় একটি অংশ সমাজের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। তাই এসব মৃত্যু নিয়ে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্বেগ অনেক সময় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। একসঙ্গে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটলেই বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায় এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা তৎপর হয়।

তার মতে, বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা ও ধারাবাহিক প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকার যদি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তালবীজ রোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে ব্যাপকভাবে তালবীজ রোপণ করা সম্ভব হবে।

এতে একদিকে পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *