স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে ‘লিচু কেয়ার’ নাম ব্যবহার করে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আবুল হোসেন শাওন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওই ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনানীর রোড নং–১১-এ ঢাকা ব্যাংকের একটি শাখা ভবনের ১২ তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখানে ‘লিচু কেয়ার’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও ওই ফ্ল্যাটে বিভিন্ন ব্যক্তির নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্ল্যাটটিকে কেন্দ্র করে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডও হতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতে প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আবুল হোসেন শাওনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “আমাদের দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। তারা তো কিছু বলে না। যা বলেন আপনারা সাংবাদিকরা। আপনাদের এত কিছু জানার কী দরকার?”
তার এই বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার পরিবর্তে এমন মন্তব্য জনমনে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর বক্তব্য জানতে সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত।
এলাকাবাসীর মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হলে জনমনে বিদ্যমান সন্দেহ দূর হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো স্থানীয়দের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো কোনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা দ্বারা প্রমাণিত হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।