স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কঠিন সময়ে হামলা, মামলা, জেল-জুলুম সহ্য করে রাজপথে শক্ত হাতে সংগঠন পরিচালনা করেছেন বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা। দলের দুর্দিনের এই কাণ্ডারি নেত্রীকে নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন গ্রেপ্তার ও নিপীড়নের ভয়ে অনেকেই রাজপথে নামতে দ্বিধাবোধ করতেন, সেই সময় দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে বরিশাল মহানগর মহিলা দলকে সক্রিয় রেখেছিলেন ফরিদা। মিটিং-মিছিল আয়োজনসহ কর্মীদের উৎসাহিত করে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। নিজের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে রাজপথে হাজারো নারী কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন এই নেত্রী।
বর্তমান সভাপতি তিথিসহ অনেককে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মহানগর মহিলা দলকে পুনরুজ্জীবিত করার পেছনে তাঁর বড় অবদান রয়েছে বলে মনে করেন সাধারণ কর্মীরা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলকে সুসংগঠিত করা এবং ত্যাগী এই নেত্রীর ইতিবাচক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বলেন, “একটি চিহ্নিত মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে ক্রমাগত ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে আমি বাধ্য হয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “বরিশালকে মাদকমুক্ত করতে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, যারা মাদক বিক্রেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আমি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে ফরিদা জানান, তিনি অতীতেও রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানেও দলের আদর্শ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কাজে তিনি কখনোই যুক্ত ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন না বলে জানান তিনি।
এদিকে তৃণমূলের সাধারণ নারী কর্মীদের দাবি, দলের জন্য ফরিদার ত্যাগ ও অবদান অনস্বীকার্য। নতুন কাউকে দিয়ে এই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তারা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত, দুর্দিনের এমন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা, যাতে ভবিষ্যতে ত্যাগী কর্মীরা রাজনীতিতে নিরাশ না হন।