বরুড়ায় বিয়ের আয়োজনকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, দা’র কোপে যুবক আহত, স্বর্ণালংকার লুটের দাবি

আবু ইউছুফ রাবেতঃ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৩ নম্বর খোশবাস ইউনিয়নের আরিফপুর গ্রামে পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দা’র কোপে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া নারী-পুরুষকে পিটিয়ে আহত করা এবং প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী ইয়াছমিন আক্তার (২৮) অভিযোগ করে জানান, গত ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে তাদের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানের রান্নার আয়োজন চলছিল। এ সময় পাশের ঘরের জাহাঙ্গীর আলম (৫৫), পিতা- আবদুল মমিন, রান্নার স্থান নিয়ে আপত্তি তোলেন। একপর্যায়ে পূর্ব বিরোধের জেরে তিনি দা, লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজনকে সঙ্গে করে সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ইয়াছমিনের বোনের ছেলে ফরহাদ হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং পরে তিনটি সেলাই দিতে হয়। হামলাকারীরা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এলোপাতাড়ি লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইয়াছমিনের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তার কানে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের এক জোড়া স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এছাড়া উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে দাবি করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১০৯৫/১৯৬, ১০৯৬/১৯৭ ও ১০৯৭/১৯৮ (তারিখ: ২৬ জুন ২০২৬)।
এ ঘটনায় বরুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরুড়া থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *