স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন সড়ক উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিদর্শন ও কারিগরি পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের মান যাচাই, ডিসিভি টেস্ট এবং প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে উপকরণের গুণগত মান মূল্যায়ন করা হয়।
মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং টেকসই সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলজিইডি পল্লি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, কৃষি ও অকৃষি পণ্য পরিবহন এবং সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
পরীক্ষা ও পরিদর্শন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া ঢাকার আগারগাঁও থেকে আগত সিআইডিপি প্রকল্পের পরিচালক মো. লতিফ হোসেন, প্রকল্পের স্টাফ অফিসার মো. সেলিম, মো. মাছুম খান রহমান এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরিদর্শনকালে সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত ইট, বালু, ইটের গুঁড়াসহ নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডিসিভি টেস্ট ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মান বজায় আছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, সড়কের স্থায়িত্ব, নিরাপদ চলাচল এবং সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের সুফল দীর্ঘমেয়াদে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে নির্মাণের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। মানসম্মত সড়ক অবকাঠামো গ্রামীণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ায়।
বরুড়া উপজেলায় সড়ক উন্নয়নকাজে উপকরণের মান যাচাই ও কারিগরি তদারকি অব্যাহত থাকলে নির্মাণকাজের জবাবদিহি জোরদার হবে এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে ইতিবাচক ফল আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রকল্পের স্টাফ অফিসার মো. সেলিম বলেন, প্রকল্প পরিচালক কর্মীদের প্রতি এবং কাজের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। কাজের মাঝে কোনো সমস্যা দেখা দিলে কিংবা অফিসের স্টাফদের কোনো প্রয়োজন হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেন।
তিনি বলেন, পরিচালকের তত্ত্বাবধানে কর্মীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সমন্বয়ের ফলে কাজের গতি এবং গুণগত মান দুটিই বজায় থাকছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নির্মাণকাজের প্রতিটি স্তরে কারিগরি পরীক্ষা ও তদারকি থাকলে সড়ক দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। ফলে বারবার মেরামতের খরচ কমবে এবং জনগণ দীর্ঘদিন মানসম্মত যোগাযোগ সুবিধা পাবে।
তাঁরা আরও বলেন, স্বচ্ছ কারিগরি মূল্যায়ন, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুসরণ এবং দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল আরও কার্যকরভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। বরুড়ার গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক এলাকার অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখে।