মোঃআনজার শাহ :
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার প্রহর ফুরিয়ে অবশেষে সুখবর পেতে চলেছেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষাধিক বাসিন্দা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে উন্নীত করে ১০১ শয্যায় রূপান্তরের উদ্যোগ এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত অনুমোদনপত্র ইস্যু হওয়ায় বরুড়াবাসীর মনে জেগেছে নতুন স্বপ্ন ও আশাবাদ।
বাস্তব চিত্র অবশ্য এখনো কষ্টকর। সাইনবোর্ডে ৫০ শয্যার কথা লেখা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ৩১ শয্যা দিয়েই চলছে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবাকার্যক্রম। প্রতিদিনের রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। শয্যা সংকটের কারণে বহু রোগীকে সইতে হয় নানামুখী দুর্ভোগ, কখনো মেঝেতে শুয়েই নিতে হয় চিকিৎসা।
এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। স্থানীয় সূত্র জানায়, তাঁর অব্যাহত প্রচেষ্টাতেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম গতি পেয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র জারি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বরুড়ার স্বাস্থ্য খাতে আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্প্রসারিত হবে আধুনিক চিকিৎসাসেবা, নিয়োগ পাবেন নতুন জনবল এবং সংযোজিত হবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। এতে কেবল বরুড়া নয়, উপকৃত হবে আশপাশের উপজেলার মানুষও।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে অভিহিত করেছেন বরুড়ার স্বাস্থ্য খাতের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে। তাঁরা অবিলম্বে প্রকল্পের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ ১০১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের খবরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বরুড়াবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই উন্মোচিত হবে বরুড়ার স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত, ঘুচবে বছরের পর বছরের ভোগান্তি।