নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতে ভ্রমণের বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে একটি যৌথ ‘বিজনেস-টু-বিজনেস’ (বিটুবি) টাস্কফোর্স গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন পবনকুমার তুলসীদাস বাধে।
তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে তুলতে এ ধরনের একটি টাস্কফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার জানান, প্রস্তাবিত টাস্কফোর্স দ্রুত গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তাঁর দপ্তর বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতাও চান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণের ভিসা প্রসঙ্গও উঠে আসে। পবনকুমার তুলসীদাস বাধে জানান, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতে ভ্রমণের বিভিন্ন ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় হাইকমিশন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ভিসা ইস্যু করছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা কার্যক্রম ২০২৬ সালের জুনের শেষ দিক থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা কার্যক্রম চালু থাকার পাশাপাশি আবেদন ও ভিসা প্রদানের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও জোরদার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদারে একটি যৌথ টাস্কফোর্স কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মানুষের যাতায়াত এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ভিসা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের বক্তব্য বাংলাদেশি ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।