বান্দরবানে প্রতিবন্ধী দুই বোনের ৫ একর জমি জবরদখল করে অবৈধ ইটভাটা চালুর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে শারীরিক প্রতিবন্ধী ও চরম দরিদ্র দুই বোনের প্রায় ৫ একর পৈতৃক জমি কথিত জাল ওয়ারিশ সনদ ও জালিয়াতির মাধ্যমে জবরদখল করে সেখানে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী দুই বোন মদিনা বেগম (৫০) ও জরিনা বেগম (৪৭) মৃত আবদু ছালামের কন্যা। তারা লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুরছড়া এলাকার বাসিন্দা। পৈতৃক সম্পত্তি হারানোর পর বর্তমানে তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, জীবিকার তাগিদে তারা ভিক্ষাবৃত্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জমির বিবরণ ও জালিয়াতির অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৩০৬ নম্বর ফাইতং মৌজার আর/৩৩০ নম্বর হোল্ডিংভুক্ত প্রায় ৫ একর পৈতৃক জমি মৃত আবদু ছালামের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের অজ্ঞাতে ও সম্মতি ছাড়া একটি প্রভাবশালী চক্র ভুয়া ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য জালিয়াতির মাধ্যমে জমির অংশ নিজেদের নামে নামজারি ও দলিল সম্পাদন করে নেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মিস কেস নং-৩১৬/ডি/২০১৮-এর মাধ্যমে ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রায় ২ দশমিক ৫০ একর জমির নামজারি সম্পন্ন করা হয়। পরে ৮০৭/২০১৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আরও প্রায় ২ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে পুরো জমিতে ‘মক্কা মদিনা ব্রিকস (এমএমবি)’ নামে একটি অবৈধ ইটভাটা স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন, রুহুল আমিন, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ফরিদ আহমদ এবং মক্কা মদিনা ব্রিকস (এমএমবি)-এর বিরুদ্ধে জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আইনি লড়াইয়ে অক্ষমতা

ভুক্তভোগী দুই বোন জানান, তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যানের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাননি। সে সময় তাদের আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে আইনি লড়াইয়ের পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম অর্থনৈতিক সংকট ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে মামলার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় তারা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার আবেদন করেছেন।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী দুই বোন প্রধান উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং ভূমি জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র, ওয়ারিশ সনদ ও নামজারির নথি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *