বাবা-মেয়েসহ ৩ জনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, থানায় বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বাবা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে তাঁদের আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করলে প্রায় সাত ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। ভুক্তভোগীরা হলেন কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) এবং ছায়েদ মিয়ার ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন ও ছোট ভাই ইউনুস ইজিবাইকে করে চুনারুঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বগাডুবী রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন বলে তাঁরা দাবি করেন। পরে তল্লাশির সময় তাঁদের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁদের পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হন। তাঁরা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার মোল্লা বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। আটক তিনজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে তাঁরা জানেন। ঘটনার কথা শুনে তিনি থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

ছায়েদ মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার অভিযোগ করেন, রাস্তা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের সহায়তায় তাঁর স্বামীর পকেটে ইয়াবা দিয়ে ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

কালিশিরী গ্রামের বাসিন্দা সুরত আলী বলেন, ঘটনাটি ষড়যন্ত্র করে সাজানো হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। আরেক বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, কাউকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসানোর অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই মাসুম আল মামুনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তাঁকে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, আটক তিনজনকে বিকেল পাঁচটার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাঁদের ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশও অভিযুক্ত সদস্যদের বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *