কামরুল:
চট্টগ্রাম নগরীর বিটেক বাজার এলাকায় ড্রাগ লাইসেন্স ও নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধের দোকান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আরব আলী ও ফরিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ওষুধের দোকানে কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিটেক বাজার এলাকায় আরব আলী ও ফরিদের পরিচালিত ওষুধের দোকানে বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ড্রাগ লাইসেন্স ও নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট ছাড়া কীভাবে এসব দোকানে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, তা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে দোকানসংশ্লিষ্টদের কথা কাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দোকানমালিকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে ড্রাগ লাইসেন্স ও নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ফার্মাসিস্ট ছাড়া ওষুধ বিক্রি করলে তা আইনগত জটিলতার কারণ হতে পারে। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টের তত্ত্বাবধান ছাড়া ওষুধ বিক্রি হলে রোগীদের ভুল ওষুধ কিংবা ভুল মাত্রার ওষুধ গ্রহণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে যথাযথ নির্দেশনা না পেলে রোগীর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া ওষুধের গুণগত মান, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও মেয়াদ যাচাই না করে বিক্রি করা হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিটেক বাজারের উল্লিখিত দোকানগুলোতে নকল, মানহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন প্রয়োজন।
বৈধ ফার্মেসি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন
বৈধভাবে ওষুধের দোকান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ড্রাগ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা জরুরি। পাশাপাশি প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থা করতে হয়। দোকান পরিচালনার ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, মালিকের পরিচয়পত্র, দোকানের মালিকানা বা ভাড়ার কাগজপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
এ অবস্থায় বিটেক বাজারের সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর বৈধ কাগজপত্র ও কার্যক্রম যাচাই করে দেখার জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে আরব আলী ও ফরিদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।