আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রিয়জনদের খোঁজ না পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চরম উৎকণ্ঠায় কাটিয়েছেন বিবিসির সাংবাদিক ভ্যালেন্তিনা ওরোপেজা। সেই ভয়াবহ সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একপর্যায়ে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো তার বোন ও মা আর বেঁচে নেই।
ভ্যালেন্তিনার বোন ভেরোনিকা ওরোপেজা ভূমিকম্পের পরপরই হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেখানে আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাড়িটা ভয়ংকরভাবে কেঁপে উঠেছে, এখনও কাঁপছে। আমরা ভয় পাচ্ছি।”
সেসময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন ভ্যালেন্তিনা। তিনি জানান, বার্তাটি পাওয়ার পর থেকেই বারবার ফোন করেও বোন কিংবা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। তাদের ফোন বন্ধ ছিল বা কোনো সাড়া মিলছিল না।
এর কিছুক্ষণ পর কারাকাসভিত্তিক সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ চ্যাট থেকে তিনি ভূমিকম্পের খবর জানতে পারেন। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন এক বন্ধু তাকে রাজধানীর লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ভিডিও পাঠান।
ভ্যালেন্তিনা বলেন, “ভিডিওটি দেখেই ভবনটি চিনতে পারি। সেটি আমার বোন ও মায়ের অবস্থান থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে ছিল। তখন একের পর এক ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছিল। আমি ভয়ে ও উদ্বেগে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম।”
অবশেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভেরোনিকার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়। তখন তাদের এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে আসে। তবে সংক্ষিপ্ত সেই কথোপকথনও ছিল আবেগঘন ও আতঙ্কে ভরা।
ভ্যালেন্তিনার ভাষ্য, “ফোনে সে শুধু বলেছিল, ‘আপু, আমি ভেবেছিলাম আমরা মারা যাব।’ এরপরই আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”
তিনি জানান, ভেরোনিকা পরদিন বাড়িতে ফিরে যাবে। তবে এখনো নিশ্চিত নয়, ভূমিকম্পের পর তাদের বাসস্থান অক্ষত আছে কি না, কিংবা সেখানে থাকার মতো কোনো ঘর অবশিষ্ট রয়েছে কি না।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্প শুধু ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষতিই করেনি, অসংখ্য পরিবারের মধ্যে সৃষ্টি করেছে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জনদের হারানোর শঙ্কায় ভরা দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প।