মতিঝিলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সর্দারকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সর্দার মোঃ আল আমিনকে বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগপত্রে আল আমিন উল্লেখ করেন, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২-এর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মতিঝিল থানাধীন সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের পাশে অবস্থিত ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সর্দার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে সেখানে নিয়োজিত আছেন।

অভিযোগে আল আমিন দাবি করেন, অভিযুক্তরা তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর স্থলে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র ও পাঁয়তারা করে আসছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বুধবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে আল আমিন কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আল আমিনের অভিযোগ, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। তাঁকে উপর্যুপরি মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় মারধরের আঘাতে আল আমিন মেঝেতে পড়ে যান। এ অবস্থায়ও তাঁকে মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন। পরে অভিযুক্তরা ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য তাঁকে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর তিনি কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগী অভিযোগে আরও দাবি করেন, তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে তৎপর ছিলেন। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনাকে তিনি নিজের নিরাপত্তা ও চাকরির জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।

অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন আলাউদ্দিন (৪২), পিতা রতন; মোঃ সহিদ মিয়া (৪৫), পিতা লাল মিয়া মেম্বার ও মাতা জাহেরা বেগম; মোঃ ইউনুছ (৪৬), পিতার নাম অজ্ঞাত; এবং মোঃ শুকুর আলী (৪৫), পিতা সুলতান আলী। অভিযোগপত্রে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, তাঁদের বসবাস ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে।

ঘটনার পর আল আমিন মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

তবে এ ঘটনায় মতিঝিল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মারধর, টাকা দাবি, ষড়যন্ত্র ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়গুলো ভুক্তভোগী মোঃ আল আমিনের লিখিত অভিযোগে উত্থাপিত হয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *