রূপপুরের বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ১০ টাকা হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম প্রায় ১০ টাকা হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো দাম নির্ধারণ হয়নি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিশেষজ্ঞ কমিটির হিসাবে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ মার্কিন সেন্ট বা ৮ টাকা ৭৫ পয়সা হতে পারে। অন্যদিকে, বিমা ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হলে প্রতি ইউনিটের দাম ১০ টাকার কম হবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কবে চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তাঁকে এখনো কিছু জানায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে পিডিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি (পিপিএ) হতে পারে। ওই চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্য চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

পিডিবির বিশেষজ্ঞ কমিটি কেন্দ্রটির আয়ুষ্কাল ৬০ বছর ধরে হিসাব করে একটি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিয়েছে। ওই হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৮ টাকা ৭৫ পয়সা হতে পারে। তবে রূপপুর প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই হিসাবে কয়েকটি ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিশেষ করে বিমা ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা ছাড়াতে পারে।

সূত্র জানায়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম কেন্দ্রটির আয়ুষ্কাল ৮০ বছর ধরে হিসাব করার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, পিডিবি ৬০ বছর ধরে উৎপাদন ও ব্যয়ের হিসাব করেছে। কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল, পরিচালন ব্যয় এবং অন্যান্য খাতের হিসাবের ওপরই শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম নির্ভর করবে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিডিবির হিসাবে প্রকল্পে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। তবে ৪ শতাংশ সুদসহ ২০ বছরে ঋণ পরিশোধে সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। কেন্দ্রটির প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং উৎপাদন দক্ষতা ৯০ শতাংশ ধরে হিসাব করা হয়েছে। প্রতিবছর পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি মার্কিন ডলার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঋণ পরিশোধের পর অর্থাৎ প্রায় ২০ বছর পর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ মার্কিন সেন্টে নেমে আসতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে প্রকল্পের ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও সরকারের দক্ষতার ওপর।

তুলনামূলকভাবে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ২ দশমিক ৫০ থেকে ৪ দশমিক ৫০ রুপি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার বাড়লে রূপপুরের বিদ্যুতের খরচও বাড়তে পারে।

রূপপুরে পৌঁছেছে পারমাণবিক জ্বালানির আরেক চালান

এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির আরেকটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে বিমানে জ্বালানির চালানটি ভারতের দিল্লি হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানটিতে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি বুঝে নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *