মধুপুরে ২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক যেন মরণফাঁদ

কে. এম. তৈয়ব আলী হীরা:

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার একটি জনবহুল গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উপজেলার ৪ নম্বর কুড়াগাছা ইউনিয়নের চাপাইদ শিমলাপাড়া ব্রিজপাড় থেকে সেগুনবাগান পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজর নেই। ফলে সড়কটি এখন অনেকটা ‘মালিকবিহীন’ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এর কারণে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন শত শত ঘোড়ার গাড়িতে করে পাহাড়ি এলাকার চাষাবাদ করা ফসল এই সড়ক দিয়ে মধুপুর শহরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদা ও পানি জমে থাকায় ঘোড়ার গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষকদের পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। অনেক সময় উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিয়ে যেতে না পারায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী আরও জানান, সড়কটি শুধু কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতেরও অন্যতম প্রধান পথ। সড়কটির বেহাল দশার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদাপানি জমে যাওয়ায় পথচারীদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কেউ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতেও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি এলাকার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পড়ে থাকায় তারা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাদের দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করা সম্ভব হবে এবং কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এলাকাবাসী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে অবিলম্বে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মধুপুর-ধনবাড়ী আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের বিশেষ সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *