নাছিমা খাতুন সুলতানা:
ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলাধীন কামারগাঁও ইউনিয়নের বায়যান গ্রামে মোঃ সোহেল মিয়া (জীবন)–এর মৃত্যু ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নিহত সোহেল ওই গ্রামের মোঃ জালাল উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে দিবাগত রাত থেকে সোহেল মিয়াকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে সোহেলের বোন সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যার জিডি নম্বর ১২৮।
এরপরের দিন এলাকাবাসী একটি স্থানে সোহেল মিয়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে নিহত সোহেলের বাবা-মা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয়রা জানান, সোহেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে একই উপজেলার হরিয়া গাই গ্রামের মোঃ বারেক মিয়া ও জজ মিয়ার ভাতিজা আজিজুল হকের ছেলে মোঃ আলমগীর এবং মোঃ আকাশ মিয়ার সঙ্গে নিয়মিত চলাফেরা করতেন। তারা প্রায়ই সোহেলের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এলাকাবাসীর দাবি, ওই দুই যুবক বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরে দাবি করা হয়, নিহত সোহেলের কোমরে বিদ্যুতের তার কাটার কাজে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে। এতে অনেকের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে, বিদ্যুতের তার বা ট্রান্সফরমার থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করতে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা বা সংঘবদ্ধ ঘটনার শিকার হয়েছেন কি না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এছাড়া কয়েকটি প্রতিবেদনে কামারগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ আহম্মদ আলীর নাম জড়ানো হলে ইউনিয়ন পরিষদসহ পুরো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ একাধিক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ইউপি সদস্য মোঃ আহম্মদ আলী একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে আসছে। সোহেল মিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেই চক্র আবারও তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ আহম্মদ আলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের শুরু থেকেই আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে। আমি বিএনপি সমর্থিত রাজনীতি করি বলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে। পরে আরও একটি মারামারি মামলায় আসামি বানানো হয়। এখন আবার সোহেল মিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে।”
তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
কামারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ, নিহত সোহেলের পরিবারবর্গ, এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এসব মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সোহেল মিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, দোষী যেই হোক না কেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলেই তারা ন্যায়বিচার পাবে।