মাইন বিস্ফোরণে তিন সেনা আহত, উত্তর কোরিয়াকে ক্ষমা চাওয়াতে চাপের ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল (ডিএমজেড) এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে, গত মাসে ডিএমজেডে বিস্ফোরিত দুটি মাইন প্রায় এক বছর আগে উত্তর কোরিয়ার সেনারা পুঁতে রেখেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিয়ংইয়ংকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় সিউল।

একই সঙ্গে ডিএমজেডের মধ্য দিয়ে যাওয়া সামরিক সীমারেখার (এমডিএল) দক্ষিণ পাশে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের পুঁতে রাখা অন্যান্য মাইন সরানোর আহ্বানও জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ডিএমজেড কোরীয় উপদ্বীপকে বিভক্ত করে রেখেছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত।

তবে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা করেছেন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চুং বিন-না বলেন, পিয়ংইয়ংকে ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ডিএমজেডে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাটি দুই কোরিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। দুই দেশ ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি না হওয়ায় কারিগরি অর্থে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে ডিএমজেডের দক্ষিণ পাশে মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই সেনা গুরুতর আহত হন। তাদের একজন দুই পা হারান। সে সময় সিউল অভিযোগ করেছিল, উত্তর কোরিয়ার সেনারা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে ওই মাইন পুঁতে রেখেছিল। তবে পিয়ংইয়ং ওই অভিযোগও অস্বীকার করেছিল।

২০২৪ সাল থেকে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্তজুড়ে মাইন পাতা এবং ট্যাংকবিরোধী প্রতিবন্ধক নির্মাণ করছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ কার্যক্রমের সময় আন্তঃকোরীয় যোগাযোগের পুরোনো সড়কগুলোর উত্তর অংশও বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *