“মাদকমুক্ত সমাজ গড়াই আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার”  বরুড়ায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের 

 

মোঃআনজার শাহ

“রাস্তাঘাট হবে, ভবন হবে, বিদ্যুতের আলো পৌঁছাবে প্রতিটি ঘরে। কিন্তু সমাজের মানুষ যদি মাদকের আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে সেই উন্নয়নের কোনো মূল্য থাকে না। আগে সমাজকে রক্ষা করতে হবে, নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে হবে, সন্তানদের রক্ষা করতে হবে।” দৃঢ় উচ্চারণে কথাগুলো বলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন) এমপি। তাঁর কণ্ঠে ছিল উন্নয়নের প্রত্যয়, সুশাসনের অঙ্গীকার এবং একটি মাদকমুক্ত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বরুড়া গড়ে তোলার স্বপ্ন।

কুমিল্লার বরুড়া দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম। উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন, বরুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলামসহ উপজেলা, পৌর ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

“আগামী পাঁচ বছরে বদলে যাবে বাংলাদেশের চেহারা”
সভায় উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণের নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “দেশ গড়তে শুধু একজন মানুষের চেষ্টা যথেষ্ট নয়। আমাদের সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা যদি দেশের নেতৃত্বকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করি, তাহলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের চেহারায় আমূল পরিবর্তন আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা এখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ বলতে পারবেন না, আমি কখনো কাউকে অন্যায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি কিংবা কারও অধিকার কেড়ে নিয়েছি। আমি হয়তো আপনাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি না, কিন্তু জনগণের কল্যাণে কাজ করা থেকে কখনো পিছিয়ে থাকি না।”

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান:
মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “যেদিন আপনার সন্তান মাদকাসক্ত হবে, সেদিন আপনি উপলব্ধি করবেন মাদকের ভয়াবহতা কতটা নির্মম। সমাজের অধিকাংশ অপরাধের পেছনে মাদকের ভয়ংকর থাবা রয়েছে। তাই পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। আপনার সন্তান কার সঙ্গে চলাফেরা করছে, আপনার ভাই কার সঙ্গে মিশছে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।”
তিনি বলেন, “আপনার মহল্লা আপনাদেরই ঠিক করতে হবে। একজন মন্ত্রী একা সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না। সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদের সবার। মাদকবিরোধী আইনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
“উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়, এটি জনগণের অধিকার”
উন্নয়ন প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি কিংবা দলের জন্য নয়, এটি জনগণের অধিকার। যে ইউনিয়নে আগে কাজ প্রয়োজন, সেখানে আগে উন্নয়ন হবে। আমার নিজের বাড়ি আগে উন্নয়ন পাবে, আর জনগণ অপেক্ষা করবে, এমন রাজনীতিতে আমি বিশ্বাস করি না।”

তিনি বলেন, “আমার কাছে জনগণের উন্নয়নই সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার। উন্নয়নের প্রশ্নে আমি দল-মত কিংবা ব্যক্তি বিবেচনা করি না। মানুষের প্রয়োজনই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর বার্তা
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “কেউ আমার দলের কর্মী হলেই তাকে অন্যায় করার সুযোগ দেওয়া হবে না। একবার বুঝিয়েছি, দুইবার বুঝিয়েছি, তিনবারও বুঝিয়েছি। তারপরও যদি কেউ অন্যায়ের পথ থেকে ফিরে না আসে, তাহলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
তরুণদের কর্মসংস্থানে টিটিসি, যানজট নিরসনে নতুন সড়ক
সভায় তিনি জানান, বরুড়ার তোলা গ্রামে একটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। এর মাধ্যমে এলাকার তরুণ প্রজন্ম আধুনিক কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়া বরুড়া উপজেলায় যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তাঁর ভাষায়, “আমি চাই বরুড়া হোক একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও সুন্দর উপজেলা, যেখানে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে যাবে প্রতিটি মানুষের ঘরে।”

 

ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা: মসজিদের পাশাপাশি মন্দির নির্মাণেরও আশ্বাস:
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বরুড়ায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মিত হয়েছে। আমি চাই, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের জন্যও একটি দৃষ্টিনন্দন মন্দির নির্মিত হোক। উন্নয়ন হবে সকল মানুষের জন্য, কোনো বিভেদ নয়, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”

স্বচ্ছতার নজির: লটারির মাধ্যমে ৪১ প্রকৌশলীর বদলি
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতার বিষয়টি তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “আমার মন্ত্রণালয়ে ৪১ জন প্রকৌশলীকে সম্পূর্ণ লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। এখানে ঘুষ কিংবা তদবিরের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। প্রথম কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেখেছি, নানা পরিচয়ে অনেকেই তদবির করতে আসেন। তাই এমন একটি পদ্ধতি গ্রহণ করেছি, যেখানে ঘুষ বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই।”

সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “অপচয় নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করতে হবে।”
চার মাসে ২২৭টি সড়কের কাজ, সেপ্টেম্বরে হাসপাতাল উদ্বোধন
সভায় মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোল জানান, গত চার মাসে ২২৭টি গ্রামের সড়কের কাজ হয়েছে । এছাড়া মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের নামে নির্মিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে উদ্বোধন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও মন্ত্রী আরো বলেন, “আমি জনগণের সেবক, জনগণের কাছেই আমার জবাবদিহিতা”
দীর্ঘ বক্তব্যের শেষ প্রান্তে আবেগঘন কণ্ঠে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাই আপনাদের কাছে আমার জবাবদিহিতা রয়েছে। আমি আপনাদের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই। আমার কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি জনগণের প্রতিনিধি। জনগণের উন্নয়ন, একটি মাদকমুক্ত সমাজ এবং একটি সমৃদ্ধ বরুড়া গড়ে তোলাই আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *