মাদক-সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ওসি আরিফ ফয়সালের অভিযান

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রাম নগরের জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ ডবলমুরিং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ আরিফ ফয়সালের নেতৃত্বে অপরাধ দমন, সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবা প্রত্যাশীরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ডবলমুরিং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), মামলা কিংবা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসা মানুষের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত পুলিশি তৎপরতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এতে থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি কিছুটা কমেছে বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন সেবা প্রত্যাশী।

ডবলমুরিং থানার আওতাধীন এলাকা জনবহুল হওয়ার পাশাপাশি এখানে রয়েছে ব্যাপক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড। ফলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় অপরাধের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো, অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

স্থানীয় কয়েকজনের মতে, থানায় এসে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে তাঁরা আগের তুলনায় স্বস্তি বোধ করছেন। অভিযোগ শোনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের তৎপরতাও তাঁদের নজরে এসেছে। তবে পুলিশের সেবার মান ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা, অপরাধের পরিসংখ্যান ও পুলিশের কার্যক্রমের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান

ডবলমুরিং এলাকায় মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি মোঃ আরিফ ফয়সাল।

স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজনের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং দৃশ্যমান পুলিশি তৎপরতা এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মাদক ও কিশোর গ্যাংসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পুলিশি কার্যক্রমকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

তাঁদের মতে, জনবহুল এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা এবং অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে তাঁদের।

অভিযোগ ও অপপ্রচার প্রসঙ্গে

অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা বাড়ার কারণে ওসি আরিফ ফয়সালকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তাঁকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য, নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, কোনো কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একইভাবে পুলিশের কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক দিকও নির্দিষ্ট তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

মানবিক পুলিশিংয়ে গুরুত্ব

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও একটি থানার সামগ্রিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডবলমুরিং থানায় মানুষের অভিযোগ শোনা, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া এবং অপরাধ দমনে সক্রিয় থাকার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশিং আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিক সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে—এমন প্রত্যাশাও তাঁদের।

ডবলমুরিং থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের অভিযোগে দ্রুত সাড়া, মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনানুগ অভিযান এবং নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

বর্তমানে সাধারণ মানুষের অভিযোগে সাড়া দেওয়া, অপরাধ দমন এবং মাদক-কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতার কারণে ডবলমুরিং থানার ওসি মোঃ আরিফ ফয়সালকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *