স্বাধীন সংবাদ বিনোদন:
ঈদে প্রচারিত নাটক ‘মায়া পাখি’র মাধ্যমে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল নাজনীন নীহা। নাটকটি মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নাজনীন নীহার ভাষ্য, শুটিংয়ের সময় থেকেই তাঁর বিশ্বাস ছিল নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে। গল্প, নির্মাণ এবং অভিনয়—সবকিছু মিলিয়ে এটি তাঁর জন্য একটি বিশেষ কাজ ছিল। মুক্তির পর দর্শকদের ভালোবাসা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পেয়েছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে ইউটিউবেও নাটকটি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
‘মায়া পাখি’ নাটকে মায়া চরিত্রে অভিনয়কে নিজের জন্য চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন নীহা। তিনি বলেন, একজন কর্মজীবী নারী, স্ত্রী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষের মানসিক দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলা সহজ ছিল না। শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতায় তিনি সন্তুষ্ট।
সম্প্রতি জিয়াউল ফারুক অপূর্ব–এর সঙ্গে ‘একটাই প্রার্থনা’ ও ‘অচেনা আমি’ নাটকেও অভিনয় করেছেন নীহা। সহশিল্পী হিসেবে অপূর্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই আনন্দের এবং শেখার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে ‘অচেনা আমি’ নাটকের গল্প শুনে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান।
দর্শকদের মধ্যে অপূর্ব-নীহা জুটির জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে নাজনীন নীহা বলেন, এটি তাঁদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। সামনে এই জুটিকে নিয়ে আরও ভালো কাজ দর্শক দেখতে পাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়ে নীহা জানান, কয়েকটি প্রস্তাব পেলেও এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর মতে, ছোট পর্দায় এখনও অনেক কিছু শেখার বাকি রয়েছে। নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত মনে হলে বড় পর্দায় কাজের বিষয়ে ভাববেন।
অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে চরিত্রকে গভীরভাবে বোঝার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন তিনি। শুধু সংলাপ নয়, চরিত্রের অনুভূতি ও মানসিক অবস্থাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন বলেও জানান।
ব্যস্ততার বাইরে পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন নাজনীন নীহা। সুযোগ পেলে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ফুটবল বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে নিজের পছন্দের দল হিসেবে আর্জেন্টিনা–এর প্রতি সমর্থনের কথা জানান নীহা। বিশেষ করে লিওনেল মেসি–র খেলা তাঁর ভালো লাগে বলেই আর্জেন্টিনার প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
ভক্তদের উদ্দেশে নাজনীন নীহা বলেন, দর্শকদের ভালোবাসাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। ভবিষ্যতেও আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং সবাইকে বাংলা নাটকের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।