মোহাম্মদ হোসেন সুমন:
মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার এক ভুক্তভোগীর মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা নতুন করে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলে পাচার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। মোবাইল ফোনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, “আমাকে রশি দিয়ে বেঁধে বোটে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে আমাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।”
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উখিয়ার মাদারবুনিয়া এলাকার কথিত দালাল আব্দুর রহমান এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তার এই বর্ণনা সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে প্রতারণা, নির্যাতন ও মানববিক্রির মতো গুরুতর অপরাধের চিত্র তুলে ধরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচার চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে দালালদের মাধ্যমে সহজে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনেককেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পাঠানো হচ্ছে। পথে নির্যাতন, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং গন্তব্যে পৌঁছে বিক্রির মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মানবপাচার প্রতিরোধের নামে কাজ করা কিছু সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, এসব সংস্থার কার্যক্রম মূলত সভা-সেমিনার ও আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ। বাস্তবে পাচার প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাচারকারীদের অস্বচ্ছ সম্পর্ক থাকতে পারে, যা পুরো কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “মানবপাচার প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। লোক দেখানো কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।”
মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে স্থানীয় কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। জনগণকে সম্পৃক্ত না করে কেবল প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, কিছু সংস্থা নিজেদের প্রচার ও আর্থিক স্বার্থে কাজ করছে, যা বাস্তব সমস্যার সমাধানে কোনো অবদান রাখছে না। ফলে ভুক্তভোগীরা রয়ে যাচ্ছেন অবহেলিত।
এ অবস্থায় মানবপাচার প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে, যেসব সংস্থা প্রকৃত কাজ না করে প্রদর্শনমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের হুঁশিয়ারি, অনিয়ম বন্ধ না হলে মানবপাচার প্রতিরোধের নামে পরিচালিত এমন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মানবপাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধ বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি—অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।