সুমন প্রধান:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর সদর উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তৎপরতা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা ও স্থানীয় পর্যায়ে জনসংযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হচ্ছে নির্বাচনী আবহ। এরই মধ্যে ইউনিয়নকে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত করে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণা জোরদার করছেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক আলহাজ মোঃ ফজলুল হক মুসুল্লী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, মতবিনিময় ও জনসংযোগের মাধ্যমে তিনি নিজের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছেন। এ সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা, চাহিদা ও উন্নয়নসংক্রান্ত প্রত্যাশার বিষয়েও খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার প্রচারণায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
আলহাজ মোঃ ফজলুল হক মুসুল্লী বলেন, “মির্জাপুর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চাই। শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত রাখার প্রত্যাশা করি। একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা
স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত মুখ আলহাজ মোঃ ফজলুল হক মুসুল্লী ভাওয়াল মির্জাপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া তিনি মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এবং মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার সমর্থকদের ভাষ্য, অতীতে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি আবারও ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চান। তাদের মতে, এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তার প্রচারণা এগিয়ে চলছে।
জনসংযোগে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে
মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সময় এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তার বিষয়গুলো আলোচনায় আসছে। বিশেষ করে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছেন তার সমর্থকেরা।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আলহাজ মোঃ ফজলুল হক মুসুল্লীকে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তার সমর্থকেরা দাবি করেন। এ সময় তার জন্য দোয়া ও সমর্থনও জানানো হচ্ছে বলে তারা জানান।
তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের অংশগ্রহণ, প্রচারণার অগ্রগতি এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির ওপর।
উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান মুসুল্লী
চেয়ারম্যান পদে প্রচারণার অংশ হিসেবে আলহাজ মোঃ ফজলুল হক মুসুল্লী মির্জাপুর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইউনিয়নের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনসেবার অঙ্গীকার এবং এলাকার সমস্যা সমাধানের উপায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন। এতে ভোটাররা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
মির্জাপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন, জননিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন আলহাজ মোঃ ফজলুল হক মুসুল্লী।