মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শুধু অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগই প্রতিরোধ করে না, এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং ও জেলা অবহিতকরণ-কর্মপরিকল্পনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান।
ডিসি রায়হান কবির বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও হামের মতো রোগের জটিলতা এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। সচেতনতার অভাবে একটি শিশুও যেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়ে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অপুষ্টি ও ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় এই ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য জেলার কোনো শিশুই যেন জীবনরক্ষাকারী এই ক্যাপসুল থেকে বঞ্চিত না হয়। বিশেষ করে বস্তি এলাকা, ভাসমান জনগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের কেন্দ্রে আনা নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলবে।
এর আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জাতীয়ভাবে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৫ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজে সচেতনতা তৈরির প্রধান মাধ্যম। আপনাদের প্রচারণায় অভিভাবকরা সচেতন হবেন এবং সন্তানদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। তাই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের গুরুত্ব জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংবাদমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।”
তিনি জাতীয় পুষ্টি সেবা, সেভ দ্য চিলড্রেন, বিভিন্ন এনজিও, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগী সংস্থার অবদানের প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জে ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদীসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তারা।