মেহেন্দীগঞ্জের কাজিরহাটে মাদকের রমরমা বাণিজ্য, প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে প্রশ্ন

মিজানুর রহমান:

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে ইয়াবা, গাঁজা ও বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ বাণিজ্য চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কিছু চিহ্নিত চক্র রাতের আঁধারে ও কখনও প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা করছে। এতে করে তরুণ সমাজ ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং সামাজিক অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার তথ্য দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করছে না, ফলে ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আগে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা কম ছিল, কিন্তু এখন মাদকের কারণে এলাকায় অস্থিরতা বেড়ে গেছে। অনেক যুবক এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমরা আতঙ্কে থাকি।” একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও কয়েকজন, যারা দাবি করেন যে মাদক সরবরাহ চক্রের পেছনে প্রভাবশালী মহলের ছায়া থাকতে পারে।

এদিকে, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহল মনে করছে, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তারা বলেন, শুধুমাত্র অভিযান নয়, মাদক ব্যবসার মূল উৎস এবং সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতীতে কিছু অভিযান পরিচালনার কথা জানা গেলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর আইন প্রয়োগ না থাকায় মাদক কারবারিরা বারবার ফিরে আসছে।

এ বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বশীল প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয় বরং সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষা এবং পরিবারের ভূমিকার মাধ্যমেও মোকাবিলা করতে হবে। তারা তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজিরহাট ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *