যশোরের অভয়নগরে আতঙ্কের আরেক নাম ‘শুটার সুমন’! চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের অভিযোগে তটস্থ জনপদ


‎বিশেষ  প্রতিনিধি

‎যশোরের অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তিকে ঘিরে ভয়, আতঙ্ক ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ জমেছে স্থানীয়দের মধ্যে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চলিশিয়া গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে ওহেদুজ্জামান সুমন ওরফে ‘শুটার সুমন’-এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দেওয়া, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎সে নিষিদ্ধ ঘোষিত পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ( চরমপন্থী দল) এর আঞ্চলিক কমান্ডার ( যশোর, নড়াইল, খুলনা,সাতক্ষীরা অঞ্চলের দায়িত্ব প্রাপ্ত)

‎অনুসন্ধানে একাধিক ঘের মালিক অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ( চরমপন্থী দল) এর আঞ্চলিক কমান্ডার   ওহেদুজ্জামান সুমন ওরফে শুটার সুমন এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ জনগণ। নিরবে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে সে ও তার সাঙ্গপাঙ্গ । অত্র অঞ্চলে এমন কোন ঘের মালিক নেই যে তাকে গোপনে চাদা দিতে হয় না। এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে তারা নানাভাবে চাপের মুখে পড়েন। কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভয়ভীতির কারণে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।

‎এদিকে তার নামে ৩ টি হত্যাসহ ৮ টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি অভয়নগরের কৃষক দল সভাপতি তরিকুল হত্যা মামলায় ও জড়িত। জেল ও খেটেছে। বর্তমানে জামিনে বের হয়ে আবারও চাদাবাজি শুরু করছে।  তার বিরুদ্ধে কথা বললে বাড়িতে গিয়ে হামলা করে। কিছুদিন আগে আঝমুল চৌকিদার, ও প্লাস সুমনকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চলিশিয়া এলাকার সাবেক সেনা সদস্য মিজানকে পা কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছে এবং এছাড়াও অভয়নগরে সাংবাদিক মাহবুবকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

‎অনুসন্ধানে জানাযায় তার বিরুদ্ধে বিগত আ’লীগ নির্বাচনে সরকারের সাথে সমোঝোতা করে বিএনপি নেতাদের বাড়ি বাড়ি ঘরের দেওয়ালে বোমা বিস্ফোরন করে আতংক সৃষ্টি করার ও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।

‎শুধু তাই নয় মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দিয়ে মাসোহারা উঠায় উঠানো থেকে শুরু করে কিশোর গ্যাংয় দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ও তথ্য পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে । এদিকে ও-ই অঞ্চলে তার আশ্রয়ে মাদক ব্যবসা করে এমন কিছু লোকের নামও উঠে এসেছে টিম আঁধারের অনুসন্ধানে তাদের মধ্যে অন্যতম, রবিউল, বিবেক,রনি,আজিম।

‎এদিকে শুটার সুমন নিজেই দেশি অস্ত্রের কারিগর তাই তার কাছে অস্ত্রের কোন অভাব নেই বলে মন্তব্য করেছেন সূত্র ও স্থানীয় অনেকেই ।

‎এদিকে শুটার সুমনের সহযোগিদের নামও উঠে এসেছে টিম আঁধারের অনুসন্ধানে, তার প্রধান সহযোগী শুভংকর ওরফে ডুবার, বিবেক, সোহাগ মোল্লা, আজিম, কংকন ও প্রান্ত বিশ্বাস, রিদয় বিশ্বাস , সাগর শেখসহ আনুমানিক ৩০/৩৫ জন। এলাকার প্রতিটি মানুষ অতিষ্ঠ এদের অপকর্মে । ইয়ং ছেলেগুলো তার পিছনে ঘুরে ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। অভিবাবকের কথা ও তারা শুনছে না।

‎এছাড়াও টিম আঁধারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে শুটার সুমন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নেতা সক্রিয় সদস্য।


‎স্থানীশ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে কথা বললে হুমকি, ভয়ভীতি কিংবা হামলার ঝুঁকিতে পড়তে হয়। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

‎এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু তরুণকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাববলয় গড়ে উঠেছে, যা সামাজিক অবক্ষয় বাড়াচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

‎স্থানীয়দের দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

‎এ বিষয়ে বিষয়ে অভিযুক্ত ওহেদুজ্জামান সুমনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

‎এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো ব্যক্তি আইন ও শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ যদি ভয়ভীতি বা অন্য কোনো কারণে অভিযোগ জানাতে না পারেন, তাহলে তাদেরকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

‎আরও এক্সক্লুসিভ আসছে টিম আঁধারের পরবর্তী পর্বে:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *