যাত্রাবাড়িতে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীর ওপর নির্যাতন

 

যাত্রবাড়ি (ঢাকা) প্রতিনিধি ঃ
দেশে যৌতুক নিরোধ আইন থাকলেও যৌতুক নেওয়া ও দেওয়ার প্রথা থেমে নেই। যৌতুক আদায়ে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিকভাবে গৃহবধূদের নির্যাতন করা হচ্ছে। একের পর এক যৌতুকের বলি হচ্ছেন অসহায় গৃহবধূরা।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় (২সন্তানের জননী) স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করেছে তার স্বামী মাহাবুবুল আলম ওরফে টিটু। এতেই ক্ষান্ত না হয়ে তাকে চিকিৎসা করতে না দিয়ে কক্ষে আটকিয়ে রাখা হয়। যাত্রাবাড়ির পশ্চিম মোমেনবাগ স্কুল রোড আড়াবাড়ি এলাকায় ১৪ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার ১১ দিনেও মামলা নেয়নি।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, মাদারীপুর জেলার সদর থানার বল্লভদী গ্রামের হানিফ খারাজির মেয়ে শামসুন্নাহার হীরাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেয়া হয় যাত্রাবাড়ির পশ্চিম মোমেনবাগ আড়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাহাবুবুল আলম ওরফে টিটু (৪৩) এর সাথে। ২০১৯ইং সালে বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে দেয়া হয় ৩ পার্টের কাঠের আলমারি, ফ্রিজ, খাট, ছোপা সেট, স্বর্নের কানের দুল ও স্বর্নের আংটি। কিছুদিন না যেতেই আবার বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে স্ত্রী শামসুন্নাহারের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালায় তার স্বামী শ^াশুরী ও ২ ননদ। তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে ৫ লক্ষ টাকা এনে স্বামী মাহবুবকে দেয়া হয়।

এর মধ্যে তাদের একটি ছেলে ও মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। মাহাবুব বেসরকারী পদ্মা ব্যাংকে চাকুরী করে। ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পরে তার চাকুরী ও বেতন-ভাতার সমস্যার কথা বলে ব্যবসার জন্য আবার বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে স্ত্রী’র উপর নির্যাতন চালায়।

উপায়ান্তর না পেয়ে মেয়ের সুখ-শান্তির কথা ভেবে মা বিউটি আক্তার তার সঞ্চিত অর্থ এবং বড় মেয়ের জামাই এর কাছ থেকে ধার করে ৬ লক্ষ টাকা তার স্মামীকে এনে দেয়। সেই টাকা দেয়ার কিছুদিন পর আবার ৫লক্ষ টাকা আনতে তাকে মারধর করে।

উক্ত টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ১৪ জুন রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ঘটিকায় শামসুন্নাহারকে তার স্বামীর তিন তলা বাড়ীর দ্বিতীয় তলা বাসায় কক্ষের দরজা বন্ধ করে মশার কয়েলের বেড দিয়ে বেদমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে। চিকিৎসা যেন করতে না পারে সেজন্য তাকে বাহির দিয়ে আটকিয়ে রাখা হয়। পরে তার মা খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মায়ের নিকট তুলে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে মাহবুবুল আলমের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তার ভুল হয়েছে বলে শিকার করে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাজু যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শামসুন্নাহারকে উদ্ধার করে তার মায়ের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *