যাত্রাবাড়ীর ধনিয়ায় রাজউক বিধি লঙ্ঘন করে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধনিয়া এলাকায় কবরস্থান রোডের পাশে একটি কুচক্রী মহল রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই ১০ তলা ভবন নির্মাণ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন নির্মাণে সব ধরনের সরকারি আইন-নিয়ম অমান্য করা হচ্ছে।

বিল্ডিং নির্মাণে অনুমোদনবিহীন কার্যক্রম

স্থানীয়রা জানান, ভবনটির চারপাশে কোনো রাস্তা না রেখে ছাদ ঢালাই করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণে ন্যূনতম সড়কপ্রস্থ, ফাঁকা জায়গা, সেটব্যাকসহ নানা মানদণ্ড পূরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না।

নির্মাণস্থলে গিয়ে ভবন মালিক কারা জানতে চাইলে একজন স্থানীয় ভদ্রলোক জানান, “ভবনটির ৩৬ জন মালিক আছে। তারা শেয়ার কিনে ভবন নির্মাণ করছেন।”

ইমারত পরিদর্শক মাসুদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এই এলাকার দায়িত্বে থাকা রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মাসুদকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসুদ এই সব অনিয়মে সরাসরি জড়িত।
ফোন করে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, যার কারণে বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

জোনের অফিসারের প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি জোন–৭ এর অথোরাইজড অফিসার ইলিয়াসকে জানানো হলে তিনি জানান,
“আমি এখনই ব্যবস্থা নেব। আমার জোনে কেউ কোনো অনিয়ম করে ভবন নির্মাণ করতে পারবে না।”
এটি স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আশ্বাস বয়ে আনলেও তারা প্রশাসনের দ্রুত কার্যক্রমের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও নিরাপত্তার উদ্বেগ

ভবনটি এত ঘিঞ্জি জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে যে ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিস প্রবেশ করতে পারবে না। পাশের বাড়িগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং সড়কবিহীন নির্মাণ এলাকার যানজট ও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি করবে

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ছাড়া এমন অবৈধ কাজ সম্ভব নয়। তারা চাইছেন প্রশাসন তৎপরভাবে পদক্ষেপ নিক এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

রাজউকের নজরদারির অভাব

রাজউকের ইমারত পরিদর্শকরা নিয়মিত মনিটরিং করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা অনুপস্থিত থাকেন। স্থানীয়রা মনে করেন, যারা দায়িত্বে আছেন তারা চোখ বন্ধ করে রাখলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদে বসবাস করবে?

এ ধরনের অনুমোদনবিহীন নির্মাণ কেবল আইন লঙ্ঘন নয়, এটি নগরের নাগরিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি স্বরূপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *