আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নির্বাচনের ফলের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান উপদেষ্টারা চান, নির্বাচনের আগে সংঘাত কোনোভাবেই বড় বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নিক। কারণ কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচনের আগে সরাসরি সামরিক হামলার বদলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের তেল বিক্রির আয় বন্ধ করতে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজ চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের পরও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।
সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় শিশুসহ চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশটির অভ্যন্তরেও পড়েছে। ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং যুদ্ধ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক জরিপে প্রায় ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমেছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টি যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও সংঘাত কতটা বাড়বে, তা অনেকটাই ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান মনে করতে পারে—নির্বাচনের আগে সংঘাত বাড়িয়ে দিলে জ্বালানি বাজারে সংকট তৈরি করে ট্রাম্প প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা সম্ভব।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল তাই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রিপাবলিকানরা জয়ী হলে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ পেতে পারে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে যুদ্ধের অর্থায়ন ও সামরিক পদক্ষেপে ট্রাম্পের ওপর কংগ্রেসের চাপ বাড়তে পারে।
তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়লে আরও কঠোর বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।