নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে রাজধানীতে অবৈধ ভবন নির্মাণের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এক শ্রেণীর ভূমিদস্যু ও অসাধু ডেভেলপার আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে বহুতল ভবন নির্মাণ শেষ করে ফেলছেন। এতে ভবিষ্যতে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের বড় ধরনের বিপদে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজউক একাধিকবার নোটিশ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না। বরং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিক বা ডেভেলপাররা ওই নোটিশ মাননীয় আদালতে দাখিল করে তিন থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আসেন। আদালতের আদেশ থাকায় রাজউক কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে না পারলেও এই সময়ের মধ্যেই পুরো ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। পরে এসব ভবনের ফ্ল্যাট সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতা ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এমনই একটি ঘটনা ঘটছে রাজধানীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে। ওয়ার্ড কোর্টের পেছনে কৈলাস ঘোষ রোডে ১৮ ও ১৯ নম্বর দাগে হুমায়ুন ও সোহেল গংরা রাজউকের কোনো অনুমোদন বা ইমারত বিধিমালা অনুসরণ না করেই বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজ চলাকালে বারবার আপত্তি জানানো হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো কর্ণপাত করেননি।
এ বিষয়ে হুমায়ুন ও সোহেল গংয়ের লোকজন বলেন, “আমাদের জমি, আমরা বিল্ডিং করব। আপনাদের কী? আমরা রাজউকের কোনো নিয়ম-কানুন মানি না।”
অন্যদিকে রাজউক জোন-৭-এর ইমারত পরিদর্শক শিহাব বলেন, “আমরা একাধিকবার হুমায়ুন ও সোহেলকে নোটিশ দিয়েছি এবং কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। প্রথম নোটিশ দেওয়া হয় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে এবং চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয় ২০ ডিসেম্বর ২০২৫। কিন্তু তারা কোনো নোটিশই মানেননি।”
তিনি আরও জানান, “আমাদের মোবাইল কোর্টের সংখ্যা সীমিত। তবে আগামীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এসব অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ভাঙার কার্যক্রম নেওয়া হবে।”
এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে রাজউকের নিয়ম অমান্য করে অবৈধ ভবন নির্মাণ চলতে থাকলে নগর ব্যবস্থাপনা যেমন ভেঙে পড়বে, তেমনি নিরীহ ফ্ল্যাট ক্রেতারা আইনি ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন। অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।