রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা নেওয়া চলবে না: প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর

মোঃআনজার শাহ

রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। শনিবার (২৩ মে ২০২৬) সকাল ৯টায় রাজউক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভায় উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ উইংয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি এবং সভাপতিত্ব করেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।

স্যুয়ারেজ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার হালচাল জানতে প্রতিবেদন তলব,

সভায় সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) প্রারম্ভিক বক্তব্যে রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ উইংয়ের কার্যক্রম ও দায়িত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী ২৮ জুনের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এই প্রতিবেদনে রাজধানীর বিভিন্ন ভবনে স্যুয়ারেজ লাইন, এসটিপি (STP) ও সেপটিক ট্যাংকের উপস্থিতি ও কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য অন্তর্ভুক্ত রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষভাবে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার বিদ্যমান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা: ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে,

মতবিনিময় পর্বে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর জোন পরিচালক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইমারত পরিদর্শকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা অনুযায়ী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তাঁর বক্তব্যে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন,

অবৈধ স্থাপনায় জিরো টলারেন্স:নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সিলগালা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিহত:রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে, তা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান: উইংভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানমুখী প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তঃসংস্থা সমন্বয়: ঢাকা ওয়াসা, ডিপিডিসি ও ডেসকোর সঙ্গে সমন্বিত আন্তঃসংস্থাগত যোগাযোগ আরও জোরদার করতে হবে।

জনবল ও প্রশিক্ষণ:রাজউকের জনবল বৃদ্ধি এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

চেয়ারম্যানের ঘোষণা: রাজউক হবে আধুনিক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠান,

সভাপতির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজউককে একটি আধুনিক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

তিনি ‘নো ফিজিক্যাল কমিউনিকেশন’ নীতি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সেবাগ্রহীতাদের আর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে না হয়।

চেয়ারম্যান আরও জানান, বিগত তিন মাসে যেসব প্ল্যানিং পারমিট প্রদান করা হয়েছে, সেসব প্লট মালিকদের সঙ্গে শিগগিরই একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে। এতে প্লট মালিকরা তাঁদের সমস্যা সরাসরি তুলে ধরতে পারবেন এবং রাজউকের বিধি-বিধান মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

নতুন ঢাকার স্বপ্ন: পথ কতটা কঠিন?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজউকের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ স্থাপনা এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতায় রাজধানী ঢাকা ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও অনলাইন সেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে যদি সত্যিকারের পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়, তাহলে রাজধানীর চেহারা বদলে যেতে পারে আমূলভাবে।

তবে ঘোষণা থেকে বাস্তবায়ন এই পথটুকু পাড়ি দেওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নগরবাসী এখন প্রতীক্ষায় আছেন শুধু সভা আর বক্তব্যে নয়, মাঠপর্যায়ে কার্যকর পরিবর্তন কবে দেখা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *