মোঃআনজার শাহ:
কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটল আজ। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের একান্ত প্রচেষ্টা ও নিরলস উদ্যোগের ফলে নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় শনিবার (২৪ মে ২০২৬) আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক কোড নম্বর ‘১৮’ নির্ধারণ করেছে। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
যেভাবে এলো এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত,
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৬ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং-২৫.০০.০০০০.০০০.১২৭.৯৯.০০৩৫.০২-৭০৪, তারিখ: ২১ মে ২০২৬) জানানো হয়, সচিবালয় নির্দেশমালা-২০২৪-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নবসৃষ্ট কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক কোড নম্বর ‘১৮’ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই প্রজ্ঞাপন জারির পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ কার্যকর রূপ দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেন। তাঁর সক্রিয় তদারকি ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই আজ এই ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপন আলোর মুখ দেখল এবং কুমিল্লা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্হানে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দপ্তর সদৃশ্য হলো।
কোড নম্বর বরাদ্দ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ,
একটি সরকারি কর্তৃপক্ষের জন্য দাপ্তরিক কোড নম্বর বরাদ্দ নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক অস্তিত্বের স্বীকৃতি। কোড নম্বর বরাদ্দের ফলে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এখন থেকে সরকারি বাজেট বরাদ্দ গ্রহণ করতে পারবে, নিজস্ব জনবল নিয়োগ দিতে পারবে, স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং কুমিল্লা অঞ্চলে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করতে পারবে।
যাদের কাছে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে,
এই প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, কক্সবাজার, গাজীপুর ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার কাছে।
মন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও কুমিল্লার ভবিষ্যৎ,
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সারা দেশে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে কার্যকর করার এই উদ্যোগ তাঁর সেই দূরদর্শী পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কুমিল্লা একটি ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই জেলায় দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে, কিন্তু পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে তা অনেক ক্ষেত্রেই অগোছালো রূপ নিচ্ছিল। কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এই অঞ্চলে পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, অবকাঠামো উন্নয়নে গতি আসবে, অবৈধ স্থাপনা ও অপরিকল্পিত নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং নগর সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কুমিল্লাবাসীর প্রতিক্রিয়া,
এই প্রজ্ঞাপন জারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই কুমিল্লার সচেতন নাগরিক ও উন্নয়নকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার ঢেউ বয়ে গেছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা ও মাওলানা ইউছুফ নিজামী মনে করছেন, এটি কুমিল্লার ইতিহাসে একটি মাইলফলক ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসা কুমিল্লাবাসী আজ তাঁদের সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেখতে পাচ্ছেন।
এক নতুন ভোরের সূচনা,
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক কোড নম্বর বরাদ্দ শুধু একটি প্রশাসনিক আদেশ নয়, এটি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে আজ কুমিল্লা পেল তার বহু প্রতীক্ষিত উন্নয়নের নতুন ঠিকানা।
কুমিল্লাবাসী এখন আশায় বুক বেঁধে তাকিয়ে আছেন সামনের দিনগুলোর দিকে, যখন পরিকল্পিত নগরায়ণের আলোয় আলোকিত হবে তাঁদের প্রিয় কুমিল্লা।