রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দায় পিয়ারুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী ফারজানা হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ। এর আগে ১৭ অক্টোবর রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
নিহত পিয়ারুল ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় মুরারীপুর গ্রামের হারুন সরদারের ছেলে। তিনি কয়েক বছর ধরে রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়ায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। ওই এলাকায় তিনি ডিশ লাইনের ব্যবসা করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩৫ মিনিটে সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে মসজিদের উত্তর পাশের কলাপসিবল গেটের সামনে পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন পিয়ারুল। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সেখানে এসে তাঁর সামনে থামেন।
একপর্যায়ে মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পিয়ারুলকে লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর মধ্যে একটি গুলি তাঁর বুকের বাঁ পাশে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান।
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় পৌঁছালে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে পিয়ারুলের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। ১৭ অক্টোবর ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এজাহারে নিহতের স্ত্রী উল্লেখ করেন, পূর্ববিরোধের জেরে অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।