স্পোর্টস ডেস্ক:
পর্তুগাল জাতীয় দলের সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চলমান বিরোধ এবার দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। পর্তুগিজ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার ও কোচ জর্জ জেসুসের মধ্যকার বিরোধ দ্রুত মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পর্তুগিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সংসদের পক্ষ থেকেও বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় রোনালদো ও কোচ জর্জ জেসুসের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। কোচের সঙ্গে সংঘাতের পর রোনালদো ব্যক্তিগত বিমানে করে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান। ক্যাম্প ছাড়ার সময় তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রকৃত ঘটনা পরে সামনে আসবে।
রোনালদোর এমন আচরণের পর তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘ও জোগো’ এক প্রতিবেদনে দাবি করে, উদ্ভূত পরিস্থিতি রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘মার্কা’ শনিবারের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জর্জ জেসুস ও রোনালদোর মধ্যে সমঝোতা করানোর জন্য পর্তুগিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে রোনালদোকে আবার জাতীয় দলের পরিবেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একাধিক পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোনালদো ও জেসুসের বিরোধ এখন আর শুধু ফুটবল অঙ্গনের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি বৈঠক হওয়ার কথাও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তাঁর যোগাযোগের বিস্তারিত বিষয় বা বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৬ সালের পরবর্তী সময় এবং বিশেষ করে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্তুগাল, স্পেন ও মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে বিশ্বকাপ ঘিরে পর্তুগালের ফুটবল অঙ্গনে রোনালদোর ভূমিকা নিয়েও আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
রোনালদো দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার কারণে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রচারণা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে জর্জ জেসুস ও রোনালদোর মধ্যকার বর্তমান বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান কীভাবে হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আগামী সপ্তাহের সম্ভাব্য বৈঠকের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে রোনালদোর জাতীয় দলের সঙ্গে সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়।