রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতীয় কর্মকৌশল কমিটিকে স্বাগত ইউসিআরের, নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আশা

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সরকার গঠিত ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’কে স্বাগত জানিয়েছে রোহিঙ্গাদের নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। সংগঠনটি বলেছে, এই উদ্যোগ রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

সোমবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ১১ সদস্যের এ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পরপরই এক বিবৃতিতে ইউসিআর জানায়, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তারা বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউসিআর বলেছে, প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ এবং প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, এতে একটি কার্যকর ও টেকসই প্রত্যাবাসন কৌশল প্রণয়ন সহজ হবে।

বিবৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসায় বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, জাতীয় কর্মকৌশলে রোহিঙ্গাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাবে এবং রাখাইন রাজ্যে তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পথ সুগম হবে।

ইউসিআরের সংগঠক মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, “ক্যাম্পে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রধান আকাঙ্ক্ষা দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। বাংলাদেশ সরকারের নতুন এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।”

তিনি আরও বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের আন্তরিকতা ও গুরুত্বের প্রতিফলন।

ইউসিআর আরও উল্লেখ করে, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়; এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও একটি যৌথ দায়িত্ব। তাই বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ সফল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

কমিটিতে যারা রয়েছেন

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) প্রধান সমন্বয়ক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক।

এ ছাড়া কমিটিকে সহায়তা করবেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (এসএসআইবি) পরিচালক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার নির্ধারণ, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় ও বাস্তবায়ন তদারকি করবে। পাশাপাশি সদস্য সচিবের নেতৃত্বে একটি পর্ষদ গঠন করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি সমন্বিত ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল’ প্রণয়ন করে কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *