লন্ডন-নিউইয়র্কের পর বার্লিনেও ‘মামদানির মডেল’, মেয়র হওয়ার পথে এলিফ এরাল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সাফল্যের পর এবার জার্মানির রাজধানী বার্লিনের রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন এলিফ এরাল্প। ২০ সেপ্টেম্বরের বার্লিন রাজ্য নির্বাচনে তাঁর দল ডি লিংকে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়ার পর সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এরাল্প মেয়র হলে বার্লিনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডি লিংকের কোনো নেতা গভর্নিং মেয়রের দায়িত্বে আসবেন।

৪৫ বছর বয়সী এরাল্প তুর্কি রাজনৈতিক অভিবাসী পরিবারের সন্তান। পেশায় আইনজীবী এই রাজনীতিক বার্লিনের আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া কমানো এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয়কে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু করেন।

নির্বাচনে ডি লিংকে প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়। দলটি রক্ষণশীল খ্রিষ্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন (সিডিইউ), সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) ও গ্রিনসের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পরবর্তী সরকার গঠনে জোটের প্রয়োজন হবে।

এরাল্পের নির্বাচনী প্রচারে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রচারণার প্রভাব ছিল। তিনি নিজেই মামদানিকে একটি রাজনৈতিক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্লিনকে আরও সাশ্রয়ী শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আবাসন ব্যয় কমানো, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং গণপরিবহনকে আরও সাশ্রয়ী করার মতো বিষয় সামনে আনেন তিনি।

এ কারণে জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এরাল্পকে ‘জার্মানির জোহরান মামদানি’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। মামদানির মতোই এরাল্পও তরুণ ভোটার ও শহরের জীবনযাত্রার ব্যয়ে চাপে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়েছেন।

বার্লিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় বড় করপোরেট মালিকানাধীন আবাসন কোম্পানির কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক আবাসন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন এরাল্প। তাঁর দল প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার আবাসন ইউনিট রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে এ পরিকল্পনার ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।

এখন নজর জোট গঠনের আলোচনার দিকে। ডি লিংকে প্রথম হলেও সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে এরাল্প শেষ পর্যন্ত বার্লিনের গভর্নিং মেয়র হতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোট আলোচনার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *