লামায় জেলা পরিষদের সড়ক নির্মাণে চরম অনিয়ম, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার:

বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা বাজার থেকে পর্যটন এলাকা ‘মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্ট’ অভিমুখী সড়কটির নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে চলমান এই ব্রিক সোলিং (HBB) রাস্তায় সরকারি প্রাক্কলন (এস্টিমেট) উপেক্ষা করে অত্যন্ত নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে ব্যবহৃত ইটগুলোর সিংহভাগই বিছানোর আগেই ভেঙে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অসংখ্য ইটের মাঝে বড় বড় ফাটল ধরেছে এবং চারপাশ থেকে চটা উঠে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী ইটগুলো যেভাবে ঠাসাঠাসি ও নিখুঁতভাবে বসানোর কথা, তা না করে অত্যন্ত ফাঁকা ফাঁকা করে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এই ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ঠিকমতো বালুর ফিলিং (ইটের ফাঁক ভরাট) করা হয়নি। পর্যাপ্ত বালু না থাকায় এবং ইটের মাঝের ফাঁকা অংশ ভরাট না করায় এখনই পুরো রাস্তাটি আলগা হয়ে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা—সামান্য বৃষ্টি বা ভারী যানবাহন চলাচল করলেই এই পাহাড়ি রাস্তা ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সড়কটির এই ঝুঁকিপূর্ণ দশা দেখে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি অর্থ অপচয় করে নামকাওয়াস্তে এমন ত্রুটিপূর্ণ ও বিপজ্জনক রাস্তা তৈরি করার চেয়ে কাজ না করাই অনেক ভালো ছিল। এটি পর্যটকদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে।”

এলাকার বেশ কয়েকজন সচেতন নাগরিক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, “আসলে এই রাস্তা জনগণের টেকসই যোগাযোগের জন্য করা হচ্ছে না। এটি শুধুমাত্র ঠিকাদারের পকেট ভারী করার একটি পাঁয়তারা। উন্নয়নের নামে এখানে সরকারি অর্থের চরম হরিলুট চলছে।”

তবে কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা সরকারের সব নিয়ম মেনে শতভাগ (১০০%) সঠিক নিয়মে কাজ করছেন। সরকারি দায়িত্বরত প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) যেভাবে নির্দেশনা ও অনুমতি দিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই মাঠপর্যায়ে কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে। কাজে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে লামা ২ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঠিকাদাররা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে কোনো প্রকার না জানিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এই কাজ করে যাচ্ছে। তারা অত্যন্ত দ্রুত সময়ে নিম্নমানের ইট দিয়ে এবং কোনো প্রকার বালু ফিলিং না করে একদম দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। উন্নয়নমূলক কাজে এই ধরনের অনিয়ম ও চাতুরি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে জানাচ্ছি।”

সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই নিম্নমানের সামগ্রী ও ভাঙা ইট দ্রুত অপসারণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী উন্নতমানের ইট ও পর্যাপ্ত বালু দিয়ে পুনরায় টেকসই রাস্তাটি নির্মাণের জন্য পার্বত্য জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *